৮ বছরেও সুনেত্র গ্যাস ক্ষেত্র স্বপ্ন দেখায়নি

এনামুল হক, ধর্মপাশা
সুনেত্র গ্যাস ক্ষেত্র এখন আর বাপেক্সে’র অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে নেই। প্রায় ৮ বছর কাজ করা হলেও এই গ্যাস ক্ষেত্র নিয়ে স্বপ্ন দেখার মতো কিছু জানানো হয়নি। ২০১৩ সালে কূপ খনন বন্ধ হবার পর এই গ্যাস ক্ষেত্রে কিছু প্রহরী ছাড়া এখন আর দায়িত্বশীল কেউ নেই। তবে আবারও এই গ্যাস ক্ষেত্রে কূপ খনন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সেটি আগের স্থানে নয়। আশপাশের কোন স্থানে খনন হবে। প্রায় দুই বছর সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও নেত্রকোণার মদন উপজেলার আশপাশে সার্ভে করার পর বাপেক্স সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্র সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা এবং নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। সুনেত্র গ্যাস ক্ষেত্রের অবস্থান সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের গাবী গ্রামে। দুই জেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় সুনামগঞ্জের ‘সু’ নেত্রকোনার ‘নেত্র’ মিলিয়ে নামকরণ করা হয়েছে সুনেত্র।
২০০৯-১০ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস-অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রতিষ্ঠান বাপেক্স সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণা জেলায় মোট ২৫৯ কিলোমিটার দ্বি-মাত্রিক ভূ-কম্পন জরিপ বা সিসমিক সার্ভের মাধ্যমে গ্যাস ক্ষেত্রটি চিহ্নিত করে। এতে দেশের স্থলভাগে আরো গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা সুদৃঢ় হয়। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এই এলাকা প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদের জন্য অপার সম্ভাবনাময়।
অবস্থানগত দিক থেকে সুনেত্র গ্যাস ক্ষেত্র ছাতক গ্যাস ক্ষেত্র থেকে ৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম এবং বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র থেকে ৬৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সুরমা বেসিনের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। সুরমা বেসিনের পূর্ব প্রান্তে বেশ কয়েকটি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও পশ্চিম প্রান্তে কোনো গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনায় সুনেত্রই ছিল প্রথম। বাপেক্স সুনেত্র গ্যাস ক্ষেত্রের সম্ভাব্য মজুদ নির্ধারণ করেছিল ২.৪৭ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট (টিসিএফ)।
২০১৩ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৪ হাজার ৪’শ ৯৯ মিটার কূপ খনন করে গ্যাসের কোন ‘সিমটম’ পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে ওখানে কূপ খনন বন্ধ হয়ে যায়।
সুনেত্র’র তৎকালীন ড্রিলিং ইনচার্জ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন,‘ওখানে প্রয়োজীয় কূপ খনন করে গ্যাস না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জ থেকে নেত্রকোণার মদন উপজেলা পর্যন্ত সার্ভে করা হয়েছে এবং ঐ সার্ভের বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেই জানি আমি। ধর্মপাশার গাবী গ্রামে যেখানে কূপ খনন করা হয়েছিল ঐ জমিটুকুর এখনো ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, স্থাপনা পাহাড়ার জন্য প্রহরীও নিযুক্ত রয়েছে।’
বাপেক্স’এর ড্রিলিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার শাহাবুদ্দিন বলেন,‘গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমি অবসর নিয়েছি, ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সার্ভে রিপোর্ট বিশ্লেষণে ওখানে কিছু পাওয়া যায়নি। এই ৪ মাসে কী হলো জানি না।’
বাপেক্স’এর ভূতাত্বিক বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার নাহিদ হাসনাত বলেন,‘সুনেত্রতে আমরা গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার করতে পারি নি। এখন সার্ভে রিপোর্ট বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী কার্যক্রমের।’
বাপেক্স’এর ভূ-পদার্থিক বিভাগের ম্যানেজার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘সুনেত্র’র সার্ভে রিপোর্টের বিশ্লেষণ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ওখানে আরেকবার কূপ খনন হবে। আগে যেখানে হয়েছিল এর আশপাশেই হবে। তবে এটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। এখনো প্রকল্প হয়নি। অগ্রাধিক প্রকল্পের মধ্যেও এটি নেই।’