৯ গ্রামের মানুষের ভরসা ১ ফেরি

আকরাম উদ্দিন
৯ গ্রামের মানুষের পারাপারের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১টি ফেরি নৌকা। শহরের সাহেববাড়ি নদীরঘাটে ইজারাকৃত ফেরিঘাটের একটি নৌকা দিয়ে শহরে আসা-যাওয়া করছেন এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ। একটি নৌকা থাকার কারণে পারাপারে যাত্রীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রী ছাউনি না থাকার ফলে রোদ ও বৃষ্টিতে নানা ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। ফেরি ভাড়া কমানোসহ নদী পারাপারে একাধিক ফেরি নৌকা ব্যবহারের দাবি জানান এলাকাবাসী।
একাধিক ফেরি যাত্রী জানান, একবার নৌকা পারাপারে দিনের বেলায় প্রতি যাত্রীকে দিতে হচ্ছে ৫ টাকা করে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ১০-১৫ টাকা করে আদায় করছেন ইজারাদারের লোকজন। প্রতিবার ফেরিতে আসা-যাওয়ায় সময় লাগছে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই একটি ফেরি নৌকা দিয়ে নদী পারাপারে প্রতিদিন নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।
এই ফেরি নৌকা দিয়ে প্রতিদিন শহরে আসা-যাওয়া করছেন সদরগড়, অলিরবাজার, আমিরগঞ্জ, বাহাদুরপুর, চাঁনপুর, গোবিনপুর, সোনাপুর, লালপুর, সাক্তারপাড় গ্রামের মানুষ। এই ফেরি নৌকা দিয়ে এলাকার ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, শিক্ষক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীরা পারাপার হয়ে থাকেন। ফেরি নৌকা পারাপারে বিলম্ব হওয়ায় কোনো কোনো সময় মুমুর্ষ রোগী ও পরীক্ষার্থীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন।
নৌকাটি সাহেববাড়ি ফেরিঘাট থেকে ছেড়ে নদী পার হয়ে সোজা চলতি নদীর মুখে সদরগড়ে, পরে পশ্চিম দিকে সদরগড় মসজিদের ঘাটে, এরপর অলির বাজারের ঘাটে গিয়ে ভিড়ে। এই নৌকাটি পুনরায় একইভাবে ভিড়িয়ে নৌকায় যাত্রী তোলে শহরের পাড়ে এসে ফেরিঘাটে ভিড়ে।
ফেরি নৌকার মাঝি জমির হোসেন বলেন,‘আমি ফেরিঘাটের নৌকা চালিয়ে মজুরী পাই প্রতিদিন ৪শত টাকা। আমার সাথে আরও আছেন ৪জন মাঝি। তারাও একইভাবে দৈনিক মুজুরী পান। ইজারাদারের কথা অনুযায়ী ফেরি যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছি।’
শহরের দ্বীনি সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন,‘আমার পরীক্ষার হলে সঠিক সময়ে পৌঁছতে শহরে বাসা ভাড়ায় থেকে পরীক্ষা দেই। ফেরি নৌকা পার হয়ে সময়মত পরীক্ষার হলে যেতে সমস্যা হয়। এছাড়া এই ফেরিঘাটে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। রোদ ও বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।’
এইচ.এম.পি স্কুলের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আব্দুর রহীম বলেন,‘আমি একবছর পরীক্ষায় যেতে নদীরঘাটে আসি। এসে দেখি ফেরি নৌকাটি চলে গেছে। এরপর অপেক্ষায় থেকে নদী পার হয়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছেও পরীক্ষা দিতে পারিনি। আমি ওই বছর ফেল করেছি।’
চানপুর গ্রামের বাসিন্দা ময়না মিয়া (৭৫) বলেন,‘দেশ স্বাধীনের পর এলাকায় মানুষ কম ছিল। তখন একটি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতেন মানুষ। এখন মানুষ বেড়েছে, এই জন্য দুইটি ফেরি নৌকার জরুরি প্রয়োজন।’
সদরগড় গ্রামের কৃষক কাহারুল ইসলাম (৬০) বলেন,‘আমার এলাকার মানুষ জরুরি প্রয়োজনে শহরে পৌঁছতে পারে না। ঘণ্টাখানেক সময় ফেরি নৌকার অপেক্ষায় থাকতে হয়। দুইটি ফেরি নৌকা থাকলে খুবই ভাল হতো।’
সাক্তারপাড়ের দীপক বর্মন বলেন,‘প্রতিবারে ১ জনের ফেরি ভাড়া ৫ টাকা, এটা অতিরিক্ত ভাড়া। এ নিয়ে কথা বললে ইজারাদারের লোকজনে সমস্যা করতে পারে। এই জন্য ভাড়া নিয়ে কেউ কথা বলতে চাননি।’
সোনাপুর গ্রামের মো. মনির হোসেন বলেন,‘আমাদের এলাকায় সোনাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সময়মত হাজির হতে সকাল থেকে ফেরি নৌকার ঘাটে অপেক্ষায় থাকেন। এরপরও বিদ্যালয়ে পৌঁছতে সমস্যা হয়। এই ফেরিঘাটে একাধিক নৌকার প্রয়োজন এবং ভাড়া কমানো জরুরি প্রয়োজন।’