ইজিবাইক বিষয়ে মতবিনিময়

আকরাম উদ্দিন
শহরে ইজিবাইক চলাচল করবে কিনা ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিভাবে হ্রাস করা সম্ভব এ বিষয়ে সুশীল সমাজের লোকজনকে নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের আহবানে রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর নিজ বাসভবনে এ মতবিনিময় হয়।
ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী, স্বপন কুমার দেব, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল, অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, ডা. সৈয়দ মোনাওয়ার আলী, কবি অ্যাড. রবিউল লেইস রোকেস, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নান্টু রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, অ্যাড. স্বপন কুমার দাস রায়, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিমান কান্তি রায়, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আব্দুর রকিব তারেক, জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির শান্তি মিয়া, জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ফৌজি আরা বেগম শাম্মী, ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, জেলা সরকারি প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. হারুন রশিদ, ইজিবাইক মালিক কানু রঞ্জন দাস, সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু।
সভায় কেউ কেউ শহরে ইজিবাইক চলাচলের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করার পর রিকশা ও সিএনজি পাওয়া যায় না। পর্যাপ্ত রিকশা ও সিএনজি না থাকায় সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী ও ছাত্র-ছাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি রিকশা ও সিএনজি ভাড়া খুব বেশী আদায় করা হচ্ছে। ৫ টাকার ইজিবাইক ভাড়ার স্থলে রিকশা ও সিএনজি ভাড়া তিনগুণ আদায় করা হচ্ছে। ’
আবার সভায় কোন কোন বক্তা বলেন, ইজিবাইক একটি প্রাণঘাতি বাহন। শহরে এর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কে মালিক, কে চালক তার কোন পরিচয় নেই। ইজিবাইকের কারণে শহরে ব্যাপক দুর্ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল। যানজটের কারণও ইজিবাইক। তাই এই বাহন শহরে না চলাই উচিৎ। তবে এর বিকল্প হিসেবে কি করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। যারা বেকার হয়েছেন তাদের কিভাবে কর্মসংস্থান করা যায় সেটি চিন্তা করতে হবে।
ইজিবাইক মালিক কানু রঞ্জন দাস বলেন, ‘আমরা ৮৫২ টি ইজিবাইক পৌরসভা থেকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। আমরা লাইসেন্স নিয়েই এসব গাড়ি চালিয়েছি। কিন্তু পৌরসভার লাইসেন্স ছাড়া আরও অনেক গাড়ি শহরে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু আমাদের গাড়ি চলাচল বন্ধ করায় আমরা সবাই বেকার হয়ে পড়েছি।’
এছাড়া সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দীলিপ কুমার মজুমদার, সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য নুরুর রব চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী খুশনুর, ক্রীড়া সংগঠক পারভেজ আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক মফিজুল হক, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আ.লীগ নেতা ইশতিয়াক শামীম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক শাহ আবু নাসের, অ্যাড. রুহুল তুহিন, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আ.ত.ম মিসবাহ, পৌর কাউন্সিলর সুজাতা রানী রায়, সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জমিরুল হক পৌরব প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ইজিবাইক মালিক শ্রমিকরা শহরে ইজিবাইক চলাচলের দাবিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের সাথে মতবিনিময় করেন।

সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমন বলেন, ‌‌যেহেতু ইজিবাইক চলাচল নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, তাই সবাইকে উচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। উচ্চ আদালত যে রায় বা নির্দেশনা দেন তার প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।

মালিক ও শ্রমিকরা দাবি করে বলেন, পৌর শহরে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করার ফলে সবাই বেকার হয়ে পড়েছেন। সাধারণ যাত্রীরা রিকশা ও সিএনজি না পেয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ইজিবাইক মালিক শ্রমিকরা ব্যারিস্টার ইমনকে আইনী সহায়তার মাধ্যমে শহরে ইজিবাইক চলাচলের সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধ করেন। যার প্রেক্ষিতে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন ব্যারিস্টার ইমন।