অকালপ্রয়াত যুবরাজনীতিবিদ স্মরণে ‘অন্তর্জালে জালাল’

তথ্যচিত্র আপলোড করছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার  বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারে

সিলেট অফিস
অকালপ্রয়াত যুবরাজনীতিবিদ মইনুদ্দিন আহমদ জালাল সিলেটের প্রগতিশীল নাগরিক আন্দোলনের একজন নিবেদিত সংগঠক ছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্মযজ্ঞ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় এক আদর্শ। এই আদর্শ দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে দিতে প্রযুক্তিবান্ধব প্রচারণা চালাতে হবে।
রোববার বিকেলে সিলেট নগরীর বাতিঘর মঞ্চে আয়োজিত মইনুদ্দিন আহমদ জালালের জীবন ও কর্ম নিয়ে তথ্যচিত্র ‘দেখব তোমারে’ ইউটিউবে আপলোড করার আনুষ্ঠানিকতায় বক্তারা এই আহবান জানান।
‘অন্তর্জালে জালাল’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরে আয়োজন করে ‘জালাল সংহতি’। অনুষ্ঠানে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রয়াত মইনুদ্দিন আহমদ জালালের স্ত্রী নাজিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দেলন (বাপা) সিলেটে সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্টপার্টি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক কাজী সাইফুল আচপিয়া, গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের সংগঠক দেবাশীষ দেবু বক্তব্য দেন। তথ্য চিত্রের স্ক্রিপ্ট রাইটার সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদী অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বক্তৃতায় বলেন, আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও জালাল আমার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। সম্প্রীতির রাজনীতি সিলেটের একটি ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্য লালন করতেন জালাল। আমৃত্যু মানুষের কল্যণে কাজ করে গেছেন। তাঁর অকাল মৃত্যু আমাদের অপূরণীয় এক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের মধ্যে এমনভাবে বিচরণ করছিলেন জালাল, মৃত্যুর দুই বছর হয়ে গেছে, তবু মনে হয় জালাল আছেন। তাঁকে ভোলা যাবে না। তাঁকে স্মরণ রাখা মানে একজন মানবিক মানুষকে স্মরণে রাখা। নতুন প্রজন্মের জন্য জালালের জীবন অনুকরণীয় এক আদর্শের। কেননা, তাঁর জীবন ছোট হলেও পুরোটা মানুষের কল্যাণে দিয়ে গেছেন।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।


প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি তামান্না ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্যচিত্রে ব্যবহৃত গানের দুই শিল্পী উজ্জ্বল চক্রবর্তী ও অরূপ দাশ ‘ভালো থেকো বন্ধু’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মইনুদ্দিন আহমদ জালাল ভারতের শিলংয়ে গিয়ে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অঙ্গীকার বাংলাদেশ’-এর পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে প্রায় ৩২টি দেশে প্রগতিশীল যুব উৎসবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিশ্বের প্রায় ৬২টির মতো দেশ ভ্রমণ করেন।
পেশায় আইনজীবী মইনুদ্দিন জালাল সিলেটে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, তেল-গ্যাস লুণ্ঠনের প্রতিবাদী আন্দোলন, ১৯৯৭ সালে মৌলভীবাজারের মাগুরছড়ায় গ্যাস পুড়িয়ে ধ্বংস করার প্রতিবাদে আন্দোলন, ২০০২-২০০৩ সালে গ্যাস রপ্তানি করার প্রতিবাদে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র রক্ষার আন্দোলন, ২০০৫ সালে টেংরাটিলা গ্যাস বহুজাতিক কোম্পানি কর্তৃক পোড়ানো, জাতীয় স্বার্থবিরোধী ২০০৫ সালে ফুলবাড়ি কয়লা খনি থেকে উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনসহ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ, শহীদ মিনার ভাঙচুর পরবর্তী প্রতিবাদী আন্দোলনেও সোচ্চার ছিলেন তিনি।