অচেনা ভাইরাসে বড়বটি সিম ও শশা’র বিনাশ

আকরাম উদ্দিন
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানের সবজি জমি বড়বটি এবং শশার চাষে অচেনা ভাইরাসে আক্রমণ করেছে। অচেনা ভাইরাসকে কেউ কেউ বলছেন ‘মোজাইক’ রোগ। এই বড়বটি সিমকে কেউ চেনেন লুবিয়া নামে, আবার কেউ চেনেন লগি উড়ি নামে। অতি লাভজনক সবজি চাষে এবার ভাইরাসের আক্রমণ হওয়ায় কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
সবজি চাষীরা জানান, প্রতি এক কেয়ার জমি চাষ করতে খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফসলের ভাল ফলন হলে বিক্রি হয় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা। এবার এই বড়বটি চাষের জমিতে অচেনা ভাইরাসের আক্রমণ হওয়ায় তাঁরা কোনো ফসল পাচ্ছেন না। এই মওসুমের খরচ ও কষ্ট সবই ক্ষতি হয়েছে তাঁদের। অপরদিকে শশার জমিতেও একই ভাইরাসে আক্রমণ করেছে। এই ভাইরাস প্রতিরোধে বাজারের বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক কিনে এনে ব্যবহার করেছেন কৃষকেরা কিন্তু কোনো কাজেই আসছে না।
বড়বটি’র গাছের চারা বড় হয়ে যখন ফুল আসে, তখন গাছের পাতা হলুদ বর্ণ হয়। কিছুদিন পর ফুল ও পাতা মুন্ডিয়ে ঝরে পড়ে। এভাবে বিভিন্ন স্থানের বড়বটির জমি এবং শশার জমিতে অচেনা ভাইরাসে আক্রমণ করে ফসলের বিনাশ করেছে।
উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁওয়ের বড়বটি চাষী সেলিম আহমদের এক কেয়ার জমিতে অচেনা ভাইরাসে আক্রমণ করেছে। চাষী আলী নোয়াজের এক কেয়ার, লাল মিয়ার এক কেয়ার, আব্দুন নুর মিয়ার এক কেয়ার, নুরুল ইসলামের দেড় কেয়ার, হাবিবুর রহমানের আধ কেয়ার, মিজানুর রহমানের এক কেয়ার, শাহ আলমের এক কেয়ার, জলিল মিয়ার এক কেয়ার, তাজুল ইসলামের এক কেয়ার বড়বটির জমিতে অচেনা ভাইরাসে আক্রমণ করে ফসলের বিনাশ করেছে। কান্দারগাঁওয়ের শশা চাষী দেলোয়ার হোসেনের এক কেয়ার, শফিকুল ইসলামের এক কেয়ার, শাহজাহানের এক কেয়ার, ইব্রাহীম আলীর এক কেয়ার শশার জমিতে অচেনা ভাইরাসে আক্রমণ করেছে। এছাড়াও ইউনিয়নের চরগাঁও, দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের জলিলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সবজি জমিতে এই ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে।
কান্দারগাঁওয়ের কৃষক আব্দুন নুর বলেন, এ বছর বড়বটি চাষের মওসুম এখন থেকে। কিন্তু ফল ধরার আগে ফুল ও পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়েছে। গাছও মরে গেছে। অনেক জাতের কীট নাশক ব্যবহার করেছি, কিন্তু কোনো কাজে আসেনি।
একই গ্রামের কৃষক সেলিম আহমদ বলেন, এক কেয়ার জমি চাষ করলে খরচ হয় অন্তত: ৪০ হাজার টাকা। ভাল ফলন হলে বিক্রি হয় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা। এবার অচেনা ভাইরাসে আক্রমণ হওয়ায় ফসলের বিনাশ হয়েছে।
কান্দারগাঁওয়ের শশা চাষী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার এক কেয়ার জমিতে অচেনা ভাইরাসে আক্রমণ করেছে। আমার জমি বড়বটি জমির পাশে। এবার নতুন এই ভাইরাসে আক্রমণ করায় আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। একই কথা বলেন শশা চাষী শাহজাহান মিয়া ও ইব্রাহীম আলী।
ধনপুর ইউপি’র উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামছুল আলম (বিধু) বলেন, বড়বটি ও শশা’র জমিতে ‘মোজাইক’ রোগের আক্রমণ হচ্ছে, এই সমস্যা নতুন দেখা দিয়েছে উপজেলায়। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দেই বড়বটির ছোট গাছ থাকা অবস্থায় কীটনাশক স্প্রে করলে এই রোগে আক্রমণ করতে পারে না। গাছ বড় হলে মাইড পোকা ও সাদা মাছির যৌথ আক্রমণে ভাইরাসজনিত মোজাইক রোগে আক্রান্ত হয়। তখন কিছুই করার থাকে না।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া বলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এবার বড়বটির চাষ হয়েছে ২ হেক্টর জমিতে। শশার চাষ হয়েছে ২৮ হেক্টর জমিতে। অচেনা ভাইরাসে ফসলে আক্রমণ করেছে, এমন বিষয়ে কোনো কৃষক জানান নি। আমি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে বিষয়টি জানবো। পরে ফসল বাঁচাতে পোকা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেবো।