অবৈধ বোমা ও ড্রেজার বন্ধের দাবি, শ্রমজীবীদের কাজের নিশ্চয়তা ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

চলতি নদীতে পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ ড্রেজার ও বোমা মেশিন বন্ধের দাবি জানিয়েছে জেলা বারকি শ্রমিক সংঘ নামের একটি সংগঠন। সোমবার জিনারপুর বাজারে সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, অবৈধ ড্রেজার ও বোমা মেশিন বন্ধের জন্য তারা অব্যাহতভাবে দাবি জানিয়ে আসলেও এর তা-ব বন্ধ হচ্ছে না। প্রশাসন মাঝে মধ্যে যে অভিযান পরিচালনা করে তা তেমন কোন সুফল বয়ে আনে না। স্থায়ীভাবে এইসব ক্ষতিকারক মেশিন বন্ধ করে সনাতনী পদ্ধতিতে বালি ও পাথর আহরণের সুযোগ দিয়ে হাজার হাজার শ্রমজীবী পরিবারের রুটি রুজির নিশ্চয়তা বিধানের দাবি তুলেছেন তারা। তারা আরও বলেছেন ড্রেজার ও বোমা মেশিনের আগ্রাসনের কারণে চলতি নদীতে আবহমান কাল থেকে হাত দিয়ে বালু পাথর তুলে যারা জীবন চালাতেন তাদের অনেকেই বেকার হয়ে গেছেন। ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকা-ও চুপসে গেছে। শ্রমিকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছেন, উজান থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ বালু-পাথর নেমে আসে সেগুলো হাতে তোলা হলে এর সাথে জড়িত হাজার হাজার বারকি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকত বছরজুড়ে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চলতি নদী দিয়ে পাহাড় থেকে বালু ও পাথর নেমে আসে। এই বালু ও পাথর আহরণ এলাকার শ্রমজীবীদের জন্য একটি পেশায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। ছোট ছোট বারকি নৌকা দিয়ে তারা এই বালু ও পাথর সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যখন থেকে বালু পাথর উত্তোলনে ড্রেজার ও বোমা মেশিন ব্যবহার শুরু করল তখন থেকেই শ্রমজীবীদের কপাল ভেঙে গেল। প্রাকৃতিক সম্পদের উপর বংশপরম্পরায় অর্জিত অধিকার হারাল তারা। অন্যদিকে পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকারক ড্রেজার ও বোমা মেশিনের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে একদিকে বালু ও পাথরের সঞ্চয় যেমন শূন্য হয়ে গেল তেমনি জনপদের পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়ল। চলতি নদী তীরবর্তী অনেকগুলো গ্রাম নদী ভাঙনের কবলিত হয়েছে। মেশিনের শব্দে ও কম্পনে জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বারকি শ্রমিকরা ছাড়াও অবৈধ এই মেশিন বন্ধের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও সমান সোচ্চার হয়েছেন। কিন্তু বোমা ও ড্রেজার মেশিন পরিচালনাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায় তাদের প্রতিরোধ করা যায় না, অপরদিকে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এসব বন্ধের জন্য যে অভিযান পরিচালনা করেন তাও কার্যকর হয় না।
বোমা ও ড্রেজার মেশিন আইনত নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ এই মেশিনের বহুল ব্যবহার থেকে প্রমাণ হয় এসব নিবৃত্ত করার দায়িত্ব যাদের তাদের শিথিলতা রয়েছে। প্রভাবশালীরা নানাভাবে তাদের প্রভাবিত করতে সক্ষম হচ্ছেন। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কঠোর হলে এমন অবৈধ কর্মকা- দিনের পর দিন পরিচালনা করে যাওয়া কখনও সম্ভব হত না বলেই মনে করেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বহু সংবাদ ও মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কার্যত কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রাকৃতিক এই সম্পদের উপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী গোষ্ঠীটি এই দাবিতে পুনরায় সোচ্চার হয়েছেন। এটি তাদের বেঁচে থাকার প্রশ্ন এবং তাদের সনাতনী পদ্ধতিটি পরিবেশের কোন ক্ষতি করে না। মানুষের জীবীকাকে যেকোন হুমকি থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই তাদের জীবন বাঁচানোর এই আকুতি বিশেষভাবে বিবেচনা করার জন্য আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানাই।
বারকি নৌকা দিয়ে যারা বালু-পাথর হাতে আহরণ করেন তাদের একটি আইনি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বারকি শ্রমিকদের জন্য পরিচয়পত্র ইস্যু করা যেতে পারে। আহরিত বালু ও পাথরের জন্য নির্ধারিত হারে রয়েলটিও আদায় করা যেতে পারে। এতে সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তির বিষয়টিও নিশ্চিত হয়।