অব্যয়িত টাকা আত্মসাতের পায়তারা ৪ পিআইসির

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে বরাদ্দকৃত অব্যয়িত ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)। এ ব্যাপারে পাউবো’র থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট পিআইসি’র সাথে যোগাযোগ করা হলেও ওইসকল পিআইসি’র সভাপতি ও সদস্য সচিব কোনো সাড়া না দিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাতের পায়তারা করছেন।
২০১৯-২০ অর্থ বছরে ধর্মপাশা উপজেলার আটটি হাওরে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে ১৭৯টি পিআইসি গঠন করা হয়। আর এসব কাজে ১৭৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় ধরা হয় ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে প্রত্যেক পিআইসিকে কাজের বিপরীতে সম্ভাব্য ব্যয়ের বরাদ্দ থেকে ১ম কিস্তির টাকা প্রদান করা হয়। কাজ চলাকালে পর্যায়ক্রমে ২য় ও ৩য় কিস্তি এবং কাজ শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত বিল প্রদান করার নিয়ম রয়েছে। ওই অর্থ বছরে পিআইসিদের ৩য় কিস্তির টাকা প্রদান করা হলে ১২টি পিআইসি পুরো টাকা ব্যয় করতে না পারায় কিছু টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। ফলে ওই সকল পিআইসিদের আর চূড়ান্ত বিল দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু তাদের কাছে অব্যয়িত টাকা পাওনা রয়ে যায় পাউবোর। ফলে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেয় পাউবো। তারই প্রেক্ষিতে ৮টি পিআইসি অব্যয়িত টাকা ফেরত দেয়। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও ২৮ নম্বর প্রকল্পে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪২২ টাকা, ৩১ নম্বর প্রকল্পে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮১৭ টাকা, ৫৪ নম্বর প্রকল্পে ৩৩ হাজার ৮৫ টাকা ও ১১৪ নম্বর প্রকল্পে ৪২ হাজার ৭০৯ টাকাসহ মোট ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি এবং পাউবোর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদেরকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও তা আমলে নিচ্ছে না ৪ পিআইসি।
২৮ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি ইমান আলী বলেন, ‘আর্থিক সংকটের কারণে টাকা ফেরত দিতে পারিনি। তবে টাকা ফেরত দিয়ে দেবো।’
সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘এ নিয়ে উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত পিআইসিদেরকে আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতের জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।’
উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট পিআইসিরা সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’