অভিনন্দন নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের

সোমবার অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে নুরুল হুদা মুকুট চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি এর আগের বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি মুকুট হারা হননি। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী খায়রুল কবির রুমেনের চাইতে ৮ ভোট বেশি পেয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে আমাদের উষ্ণ অভিনন্দন। একই সাথে সাধারণ আসন ও সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত সদস্যদেরও আমরা অভিনন্দন জানাই। স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদ। সরকারি নীতি নির্ধারণী জায়গা থেকে আনুকূল্য না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব খুব বেশি টের পাওয়া না গেলেও আলঙ্কারিক পদ হিসাবে জেলা পরিষদ ও এর চেয়ারম্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুকুট আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন এবং বিজয় অর্জনের মাধ্যমে নিজের ক্যারিশমা প্রমাণ করতে সক্ষম হলেন। প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তাঁর কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা কেবল জেলা পরিষদ কেন্দ্রীক নয়। বরং জেলার সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁর নিকট থেকে সকলে সবিশেষ ভূমিকা আশা করেন। সামনের দিনগুলোতে তাঁর ভূমিকা প্রমাণ করবে এই জনপ্রত্যাশা পূরণে তিনি কেমন ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে পরাজিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী খায়রুল কবির রুমেনও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত স্বভাবের রাজনৈতিক নেতা। প্রচুর ভোট পেয়েছেন তিনি। গ্রহণযোগ্য নেতা হিসাবে এই বিপুল পরিমাণ ভোট প্রাপ্তি তাঁর দায়িত্ব-কর্তব্য আরও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। পরাজয়ে বিমর্ষ না হয়ে তিনি যদি জেলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন তাহলে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবন আরও উজ্জ্বল হবে।
জেলা পরিষদকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার দাবি বহু পুরনো। রাজনৈতিক-আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সেই অর্থে তেমন শক্তিশালী হয়ে উঠেনি। এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার ব্যাপারে সারা দেশের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সকল ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। সকল পর্যায়ের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করার যে প্রবণতা চলমান সেখানে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জননন্দিত হতে পারেন। কেবল একটি পদ কিংবা একটি চেয়ার পাওয়ার মাধ্যমে কেউই পূর্ণতা পেতে পারেন না। বরং তিনি জনস্বার্থে কেমন ভূমিকা রাখতে পারছেন তার উপরই নির্ভর করে সবকিছু।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতিটিকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হিসাবে মেনে নেয়ার কোনো অবকাশ নেই। নির্ধারিত সংখ্যক নির্বাচকম-লীর ভোটে বর্তমান জেলা পরিষদ নির্বাচিত হয়। সুনামগঞ্জে এই ইলেকট্রোরাল ভোটার সংখ্যা ১২২৯ জন। এই পদ্ধতিটি আইয়ুব খানের বেসিক ডেমোক্রেসির ধারণা থেকে ধার করা। স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের দর্শন স্বাধীন দেশে কোনো অবস্থাতেই জুৎসই হতে পারে না। এই পদ্ধতিতে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটে বলে আমাদের মনে হয় না। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও জনসাধারণের বিভিন্ন অংশ থেকে জনগণের সরাসরি ভোটে জেলা পরিষদ নির্বাচনের দাবি জোরালো। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হলে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা অনেক বৃদ্ধি পেত। সুতরাং ভবিষ্যতে যাতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে সেই দাবি তুলে ধরাও এখন আরেক নাগরিক কর্তব্য বটে।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিলো সন্তোষজনক। এজন্য নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাগণও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সবশেষে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সামনের দিনগুলোতে সফল হোন এই প্রত্যাশা আমাদের।