‘অহিংস গণ অভ্যূত্থান’/ এদের ঠিকুজি খুঁজে মূল হোতাদের আটক করতে হবে

প্রতিষ্ঠানের নামটি বেশ চমকপ্রদÑ‘অহিংস গণ অভ্যূত্থান’। প্রথমে মনে হতে পারে এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এই সংগঠনের যে খবর পরিবেশিত হয়েছে তাতে সংগঠনটি যে আদর্শবাদী বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয় বরং ঋণ বিতরণের নামে জনগণকে ধোঁকা দেয়ার দূরভিসন্ধি এই প্রতিষ্ঠানের ভিতর রয়েছে তা বেশ বুঝা গেল। এলাকাবাসীর নিকট থেকে খবর পেয়ে শহরের আরপিননগর এলাকা থেকে রাকিবুল হাসান জুয়েল নামের ওই সংগঠনের এক সংগঠককে পুলিশ আটক করেছে। সংবাদভাষ্য অনুসারে গত কয়েকদিন ধরে ওই যুবক জনপ্রতি ১ লাখ টাকা করে ঋণ দেয়ার কথা বলে মানুষের নিকট থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছিল। স্থানীয় সচেতন মানুষের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক ও প্রতারণামূলক কর্মকা- মনে হওয়ায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। বিষয়টি রহস্যজনক। হঠাৎ করে অদ্ভূত নামের একটি সংগঠন একটি এলাকায় এভাবে ঋণ দেয়ার কথা বলে কার্যক্রম পরিচালনা করা রহস্যজনক বটে। উপরন্তু গণমাধ্যমের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওই তরুণ সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন বা কাজ করার অনুমতি রয়েছে কিনা তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
কোনো এলাকায় বেসরকারি সংগঠন বা এনজিও কে কাজ করতে হলে তাদের যেমন জাতীয়ভাবে নিবন্ধিত হতে হবে তেমনি স্থানীয় প্রশাসনকেও তাদের কার্যএলাকা ও কাজের ধরন সম্পর্কে অবহিত করতে হয়। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ স্বঃ স্বঃ এলাকার এনজিও কার্যক্রম সমন্বয় করেন। জেলা ও উপজেলায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে আছে এনজিও বিষয়ক কমিটি। স্থানীয় প্রশাসনের জানার বাইরে কোনো এনজিও কাজ করতে পারে না। আলোচ্য রহস্যজনক নামের সংগঠনটির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিবৃন্দ কোনো কিছু জানেন বলে মনে হয় না। প্রকাশিত সংবাদে জেলা পরিষদের একজন সদস্যের বক্তব্য থেকে বুঝা যায় তিনি এ সম্পর্কে অবহিত নন। সুতরাং এই সংগঠনটিকে প্রতারণামূলক সংগঠন হিসাবে ভাববার যথেষ্ট কারণ আছে বৈকি। আরপিননগরের সচেতন কিছু মানুষ সন্দেহ করতে পেরেছিলেন বলে তারা বেশি দূর এগোতে পারেনি। এটি আপাতত স্বস্তির খবর।
জনগণকে প্রলোভিত করে ঠকানোর বহু উদাহরণ আমাদের জানা আছে। এরা মানুষকে সহজে টাকা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ঢুকায়। আলোচ্যক্ষেত্রে এরা প্রথমে এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে হয়তো নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরির কাজ করছিল। এরপর হয়তো তারা কিছু কাগজপত্রও তৈরি করত। শেষ পর্যায়ে এসে সঞ্চয় বা অন্য কোনো নামে সদস্যদের নিকট টাকা চাইত। এদের কথা বলার কৌশলে সহজ সরল দরিদ্র মানুষরা খুব সহজেই আকৃষ্ট হয়। মানুষকে কীভাবে আকর্ষণ করতে হয় সে সম্পর্কে এরা প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে। বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের যে সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে তার নিকট থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে এই চক্রের মূল ব্যক্তিদের আটক করতে হবে। বলা বাহুল্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করা ওই আটক ব্যক্তিটি প্রতিষ্ঠানের আসল পরিচয় হয়তো কিছুই জানে না। এই ধরনের মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা সাধারণত ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সুতরাং মূল হোতাদের আটক করতে না পারলে প্রতারণার এই চক্রটি অন্য জায়গায় গিয়ে মানুষকে একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আরপিননগরের যে ব্যক্তিরা পুলিশকে খবর দিয়ে বহু লোককে ঠকার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই। এরকম সচেতনতা সর্বত্র থাকতে হবে। মানুষ সচেতন ও একটু খোঁজ খবর রাখলে এ ধরনের প্রতারণাকা- সহজেই আটকে দেয়া যায়। কারণ প্রতারকরা মানুষের অসচেতনাকেই মূলত কাজে লাগায়।