আওয়ামী লীগের দিরাই সম্মেলনে সংঘর্ষ/ বিএডিসি ভবনের ছাদে কারা রেখছিলো রামদা?

গত রোববার অনুষ্ঠিত দিরাই উপজেলা সম্মেলনে সংঘর্ষ চলাকালীন একটি ভবনের ছাদ থেকে কিছু রামদা নীচে ছুড়ে দেয়া হচ্ছিল এবং কিছু ব্যক্তি সেগুলো ধরছিলেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছিলো। যদিও সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয়নি তবুও কোনো কারণে যদি রামদাগুলো ব্যবহৃত হত তাহলে অবস্থা কতোটা ভয়াবহ হতে পারত তা ভেবেই গা শিউড়ে উঠে। এজন্য প্রশ্ন উঠেছে, এই রামদাগুলো কারা ওখানে মজুদ করে রেখেছিলো? প্রকাশ্য দিবালোকে একটি সরকারি ভবনের ছাদে এই অস্ত্র রাখার মতো সাহস কারা দেখাতে পারে, কেন গোয়েন্দাসংস্থা, পুলিশ এ খবর পেল না, দলীয় নেতৃত্বও কেন এমন প্রস্তুতির খবর রাখতে ব্যর্থ হলেন; এসব প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। দিরাইসহ পুরো জেলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সহনশীল রাখতে এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি।
বিএডিসি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো অবস্থাতেই কোনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কথা নয়। ওই ভবনের ছাদে অস্ত্র মজুদের ঘটনাটি তো রাজনৈতিক কাজও নয়, বরং সহিংসতা ঘটানোর পূর্বপ্রস্তুতিতে একটি সরকারি ভবনকে ব্যবহার করেছে দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা। ওই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কি ভবনের ছাদে রামদা রাখার বিষয় দেখেননি? তারা কী করেছেন? কেন তারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিষয়টি জানাননি? যদি এগুলো ব্যবহৃত হত তখন যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ঘটে যেত তার দায় নিত কে? তাই এই ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা এবং এর পিছনে যারা ভূমিকা রেখেছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
বড় এবং ক্ষমতাপ্রত্যাশী রাজনৈতিক দলে গ্রুপিং, অন্তর্কোন্দল স্বাভাবিক চিত্র বর্তমানে। এই দ্বন্দ্ব মাঝেমধ্যে সহিংস হতেও দেখা যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। সুনামগঞ্জ এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলো। মতবিরোধ বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকলেও মোটাদাগে সেগুলো চরম সহিংস হয়ে উঠতে পারেনি। সৌভাগ্য যে, দিরাইয়ে বড় কোনো সহিংসতা ঘটেনি। তবে যতটুকু ঘটেছে তাতেও সরকার ও সরকার দলীয় সংগঠনের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। এই সমালোচনার জায়গা থেকে দিরাই আওয়ামী লীগকে বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারি প্রশাসনযন্ত্রকেও পূর্বে তথ্য না পাওয়ার সীমাবদ্ধতাকে উতরিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের জনসম্মুখে হাজির করতে হবে। তবেই উপদলীয় কোন্দলের যে সহিংস রূপ সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উপদলীয় তৎপরতার সাথে কে কীভাবে জড়িত সেসব খবরের কিছু গণমাধ্যমে আসা শুরু হয়েছে। সেখানে এসব পক্ষগুলোর নামধাম প্রকাশ পাচ্ছে। এই বিবদমান পক্ষগুলোর কে কীভাবে কতটুকু ওইদিনের সংঘর্ষ তৎপরতার সাথে জড়িত তা উদঘাটন করা সকলের দাবি। বিশেষ করে রামদা জড়ো করে বড় সহিংসতা ঘটানোর দুরভিসন্ধি যারা করেছিলো তাদের স্বরূপ তো অবশ্যই উন্মোচিত হতে হবে। নতুবা এক রক্তাক্ত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অপেক্ষা করছে।
আজমল চৌধুরী নামের যে তরুণের ওইদিন মৃত্যু হয়েছিলো, তার দুঃখজনক মৃত্যুঘটনাটি কীভাবে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সংঘর্ষের সাথে সম্পৃক্ত হলো তাও জানা দরকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী কতিপয় ব্যক্তি রোববার দুপুর থেকেই আজমল চৌধুরীর মৃত্যুকে সম্মেলনস্থলের ঘটনা হিসাবে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলো। তাই এর পিছনে কার কী অভিসন্ধি তাও তদন্তের আওতায় আসা উচিৎ। দেশে বর্তমানে এক ধরনের রাজনৈতিক সংকট চলছে। সরকার ও বিরোধী দল পরষ্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থায় দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা তথা জনগণের স্বস্তির জন্য সকল মহলের দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য। এর বাইরে যেয়ে যারা সুকৌশলে ঘটনার ভুল তথ্য হাজির করে জনমনে আতংক ও সংঘাত সৃষ্টি করতে চায় তাদেরকে সংযত করাও আরেক প্রধান কর্তব্য বটে।