আজ আ.লীগে-আ.লীগে লড়াই

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন আজ সোমবার। নির্বাচনে প্রভাবশালী দুই আওয়ামী লীগ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সকলের মনোযোগ আজকের ভোটে। নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যেও বিভক্তি আছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে যেমন দায়িত্বশীলরা আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গেও প্রকাশ্য প্রচারণায় আছেন দলের দায়িত্বশীলদের অনেকে। ভোটের দিন প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে দুই প্রার্থীর পক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল দুই নেতা। দলীয় মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল কবির রুমেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের নাম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুটের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চন্দ্র দাসকে। এই বিষয়টি নিয়েও রবিবার আলোচনা ছিল জেলাজুড়ে।
নুরুল হুদা মুকুট ২০ বছর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তিনি। বিগত মেয়াদে দলীয় মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমনকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এবারের ভোটে একবছর আগে থেকেই প্রস্তুতি তাঁর। দলের প্রার্থী হবার চেষ্টা করেছিলেন, মনোনয়ন পান নি। হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দলের জেলা কমিটির কয়েকজন নেতাও তাঁর পক্ষে প্রকাশ্যে আছেন। অঙ্গ সংগঠনেও তাঁর প্রভাব আছে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের মধ্যে তাঁর অনুসারী রয়েছেন। যুবলীগের জেলা আহ্বায়ক তাঁর অনুজ (ছোট ভাই), মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাঁর স্ত্রী।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল কবির রুমেন একসময় চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন তার ভাই। নির্বাচনে রুমেনের পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা প্রচারণায় ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বললেন, সংগঠনের জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে শংকর চন্দ্র দাস দলের মনোনীত প্রার্থীর প্রকাশ্যে বিরোধীতা করছেন। তিনি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছেন। দল নিশ্চয়ই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমি যেহেতু দলের কর্মী, এজন্য দলের মনোনীত প্রার্থীর এজেন্ট হয়েছি।
সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চন্দ্র দাস বলেন, ছাত্রলীগের কর্মী থেকে আওয়ামী লীগে এসেছি। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং দলের দুঃসময়ের অগ্রজ সহযোদ্ধা মুকুট। তৃণমূলের কর্মীদের বেশিরভাগেই তাঁর পক্ষে। তিনি বিজয়ী হলে হাজার হাজার কর্মী খুশী হবে। কর্মীদের চাপেই তাঁর পক্ষে আছি।
চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুট বললেন, জেলার সকল জনপ্রতিনিধি দল ও মতের উর্ধ্বে থেকে আমাকে সহযোগিতা করছেন। দলের তৃণমূলের সকল কর্মী আমার হয়ে কাজ করছেন। আমি বিজয়ী হলে সুষম উন্নয়ন হবে। দলের শক্তি বাড়বে, এই আকাঙ্খা থেকেই সকলে আমার সঙ্গে আছেন। আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চন্দ্র দাস।
খায়রুল কবির রুমেন বললেন, আমি দলীয় মনোনীত প্রার্থী। জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী আমাকে সহয়োগিতা করছেন। অন্যান্য দলের অনুসারি জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক কর্মীরাও আমাকে সহযোগিতা করছেন।
এই জেলায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত পদে ১১ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২ কেন্দ্রের ২৪ বুথে স্থানীয় সরকারের ১২২৯ জন প্রতিনিধি আজ সোমবার ভোট দেবেন। সারা জেলার ভোট কেন্দ্রের আশপাশ এলাকা শনিবার রাত থেকেই পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষে যানবাহন ও নৌযান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, ভোট ইভিএমএ হবে। নির্বাচনে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করবেন। কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকবে। র‌্যাবও টহল দেবে। কেউ নির্বাচনী পরিবেশের বিন্দু মাত্র বিঘœ সৃষ্টি করলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।