আজ পবিত্র ঈদ ই মিলাদুন্নবী (সঃ)

হোসেন তওফিক চৌধুরী
আজ পবিত্র ঈদ ই মিলাদুন্নবী (সঃ)। প্রতি বছরের ন্যায় আজ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) আমাদের দ্বারপ্রান্তে হাজির হয়েছে। বিশ্বের সর্বকালের সর্বযোগের শ্রেষ্ঠ মহামানব শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর শুভ আর্বিভাব ও ওফাত দিবস আজ। মহানবীর আর্বিভাব মানব জাতির জন্য এক আশির্বাদ স্বরূপ।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তিনি ছিলেন কালজয়ী, ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক মহান রাষ্ট্রনায়ক ও ধর্ম প্রর্বতক। তিনি সত্য ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত করে তুলে ধরেন। মানবতাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন। এই বিপ্লবী মহানায়ক আইয়ামে জাহেলীয়া থেকে মুক্তির পতাকা উড্ডিন করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। বিশেষভাবে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে নারী জাতিকে মর্যাদার আসনে উন্নিত করেন। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনিই অগ্রদুত এবং অনন্য নজির প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনে সকল ক্ষেত্রে তিনি সংস্কার সাধন করে অনাগত ভবিষ্যতের সকল মানুষের জন্য এক অনিন্দ সুন্দর আর্দশ রেখে যান।
মাইকেল হার্ট নামের একজন মার্কিনী প্রখ্যাত লেখক ‘দি হানড্রেড’ নামে ১৯৭৮ সালে একটি পুস্তক রচনা করেন। পুস্তকে তিনি বিশে^র ১০০জন প্রখ্যাত ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেন। তিনি হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে তাঁদের মধ্যে প্রথম স্থানে আসীন করেন। তিনি লিখেন মুহাম্মদ (সঃ) একমাত্র ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব যিনি ধর্মীয় ও জাগতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরম সাফল্য লাভ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর ১৩০০ বছর অতিক্রান্ত হলেও ব্যাপকভাবে তাঁর বলিষ্ট প্রভাব আজও ব্যাপকভাবে পরিব্যাপ্ত এবং অক্ষুন্ন রয়েছে। টমাস কার্লাইল, উইলিয়াম মুর, বার্মিহাম, পিকে হিট্টি, বার্নাডশ, সৈয়দ আমির আলী প্রমুখ ঐতিহাসিক ও বরেণ্য লেখকগণ মুহাম্মদ (সঃ) কর্তৃক একটি জাতি, একটি সা¤্রাজ্য, সমাজ সংস্কার ও একটি ধর্ম প্রবর্তনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
নবী করিম (সঃ) এর অনুপম সুমহান জীবনাদর্শের আলোয় দেশের প্রতিটি মুসলিম নাগরিকের হৃদয় আলোকিত হউক। দেশব্যাপি কর্মসূচির মাধ্যমে ঈদে-মিলাদুন্নবী উদযাপনের ধারা চিররহমান থাকুক। এটাই আজকের প্রত্যাশা। আজ বাংলাদেশ সহ সারা বিশে^র মুসলমানরা এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা, পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভির্য পরিবেশে পালন করবেন। আসুন আজ আমরা সম্মিলিতভাবে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে দোয়া করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। আমিন
লেখক : আইনজীবী ও কলামিষ্ট।