আজ ভোট উৎসব

সু.খবর রিপোর্ট
চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে জেলার তিন উপজেলার ২১ ইউনিয়নে ১২৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বিশ^ম্ভরপুরের ৫ ইউনিয়নে ৩১, জগন্নাথপুরের ৭ ইউনিয়নে ৩৭ এবং দিরাইয়ের ৯ ইউনিয়নে ৫৯ চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। শনিবার সকাল থেকেই নির্বাচনী মালামাল গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টরা যার-যার গন্তব্যে পৌ^ঁছে গেছেন। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ষ্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়মিত মোবিং করবে প্রতিটি ইউনিয়নের কেন্দ্রে কেন্দ্রে। ২১০টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এর আগে গত শুক্রবার রাত ৮টায় প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হয়।
নির্বাচনকে ঘিরে এখন চারিদিকে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ভোটের হাওয়ায় এখানকার গ্রামীণ জনপদ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে চলছে ভোটের হিসেব নিকাশ। ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনও সকল প্রস্তুুতি গ্রহণ করেছে। মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন।
কলকলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলাল হোসেন রানা (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা রফিক আহমদ (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সোবহান (চশমা)। পাটলী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল হক (আনারস), আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আংঙ্গুর মিয়া (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আব্দুল হাই আজাদ (চশমা), স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আতিকুর রহমান আতিক (ঘোড়া)। চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আরশ মিয়া (চশমা), আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল গফুর (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুল (আনারস), আব্দুল মোমিন (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস মিয়া (টেলিফোন), স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান (ঘোড়া)। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম রানা (আনারস), আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছদরুল ইসলাম (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আমান উদ্দিন আহমেদ লেছু (চশমা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফ্রান্সপ্রবাসী এম, সিরাজুল ইসলাম আশিক (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী য়ুক্তরাজ্য প্রবাসী ছালিক মিয়া (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মজলুল হক (অটোরিক্সা)। সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসান (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মকসুদ কোরেশী (মোটরসাইকেল), আজহার কামালী (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মুকিতুর রহমানী (চশমা) ও আসাদ হোসেন চৌধুরী (আনারস)।
আশারকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সত্তার (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব খান (মোটরসাইকেল), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ জমিরুল হক (আনাসর), স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ হোসাইন (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী পারভেজ (টেলিফোন), স্বতন্ত্র প্রার্থী লেবু মিয়া (চশমা), শাহ তারেক রহমান (লাঙ্গল), মোহাম্মদ আলী (টেবিল ফ্যান), পাইলগাঁও ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মুখলিছ মিয়া (ঘোড়া), আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সুন্দর উদ্দিন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ফারুক মিয়া (চশমা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা দবিরুল ইসলাম (আনারস) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া সংরক্ষিত পদে নারী প্রার্থী ৮৯ জন এবং সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ২৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে পাটলী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার খালিক হাসান খালেদ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতা সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছে।
জগন্নাথপুরের সাতটি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ৭৭টি। মোট বুথ সংখ্যা ৩৭৫টি। এসব প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একজন করে মোট ৭৭ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ৩৭৫ জন এবং ৭৭০ জন পোলিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্টাইকিং র্ফোস, র‌্যাব, বিজিপি, ডিবি, মোবাইল টিম, স্ট্যান্ডবাই টিমসহ প্রত্যেক কেন্দ্রে একজন ইন্সপেক্টর ও সাব ইন্সপেক্টর, পুলিশ আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন দায়িত্বে দায়িত্বে পালন করবেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমরা শেষ করতে চাই। এজন্য সকল প্রস্তুুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্নের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩১৮ প্রার্থী
বিশ্বম্ভরপুরে চেয়ারম্যান পদে ৩০ জন, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য আসনে ২৮৮ জন সহ সর্বমোট ৩১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শনিবার প্রিজাইডিং অফিসারগণ ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নিয়ে গেছেন। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ১০ হাজার ৮০৫ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে মোট ৪৭টি।
পলাশ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৭২৭ জন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকা প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক (মোটরসাইকেল) মো. সোহেল আহমদ, আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী (ঘোড়া) মো. সুলেমান মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকে শহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) মো. ফারুক উদ্দিন তালুকদার, রজনীগন্ধা প্রতীকে ফুলু মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী (টেবিল ফ্যান) স্বপন দাস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (অটোরিকশা) বিল্টু দেবনাথ।
ধনপুর ইউনিয়ন ২৭ হাজার ৭৯১ জন ভোটার রয়েছেন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী নৌকা প্রতীকে সাবেক চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার, আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী (ঘোড়া) মো. মিলন মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো. শাহিন আলম, (চশমা) প্রতীকে মো. মনিরুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী (টেলিফোন) নুরুল আলম, মো. আবুল বাশার (মোটরসাইকেল)।
সলুকাবাদ ইউনিয়নে ২৬ হাজার ২৮ জন ভোটার রয়েছেন। এ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামীলীগের দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে মো. মহরম আলী, জাতীয় পার্টির দলীয় লাঙ্গল প্রতীকে মোসাম্মৎ তানজিনা মেহজাবিন, মোহন মিয়া (মোটরসাইকেল)।
বাদাঘাট ইউনিয়ন ১৬ হাজার ৭৬৭ জন ভোটার রয়েছেন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকা প্রতীকে মো. জামাল হোসেন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. এরশাদ মিয়া, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান (মোটরসাইকেল) মো. ছবাব মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাবেক চেয়ারম্যান (আনারস) মো. তারা মিয়া।
ফতেপুর ইউনিয়নের ১৯ হাজার ৪৯২ জন ভোটার রয়েছেন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকা প্রতীকে মো. হেলাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান (ঘোড়া) প্রবোধ চন্দ্র রায়, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মো. ফারুক আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী (মোটরসাইকেল) মো. মকবুল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী (চশমা) শেখ দেলোয়ার হোসেন ও আনারস প্রতীকে মো. শাহাবুদ্দিন সাবুল।
ফতেপুর ও সলুকাবাদ ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান ও ধনপুর, পলাশ ও বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন অফিসার মো. মনজুরুল হক বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপজেলা সদরে সার্বক্ষণিক নজরদারি করার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ মোবাইল টিমও রয়েছে।