আজ মহানবমী

স্টাফ রিপোর্টার
শারদীয় দুর্গাপূজার চতুর্থ দিন আজ মহানবমী। পূজা পৌঁছে গেল প্রায় শেষলগ্নে। আনন্দ আর বিষাদের স্রোতে আজ দিনভর বয়ে যাবে একসঙ্গে। হাতে সময় সকাল থেকে রাত পর্যন্তই। নবমীর রাত যতই বাড়বে ততই এগিয়ে আসবে দেবীর বিদায়ের পালা। ফের একটা বছরের অপেক্ষা। মায়ের অপেক্ষায় দিন গোনা। মহিষাসুর নিধনের সময় দেবী দুর্গা প্রচন্ড ক্রোধে কৃষ্ণবর্ণ রূপ ধারণ করেছিলেন। তাই পূজার এই আচারের সময় দেবীকে চামুন্ডা রূপে পূজা করা হবে অর্থাৎ যিনি চন্ড ও মুন্ডের বিনাশিনী। পূজার এই মুহূর্তটি আরও একটি কারণে স্মরণীয়। নানা আচারের মধ্যদিয়ে মহানবমীর পূজা শেষে যথারীতি থাকবে অঞ্জলি নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ।
এদিকে বুধবার মহাষ্টমীতে একশো আটটা পদ্ম দিয়ে পূজিত হন দেবী দুর্গা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে শহরের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন ম-পে অঞ্জলি প্রদান।
প্রথা অনুযায়ী দেবী দুর্গার অষ্টমীবিহিত সন্ধিপূজায় ১০৮টি নীল পদ্মের প্রয়োজন হয়, কিন্তু অনেক চেষ্টার পরেও রামচন্দ্র শুধু ১০৭টি পদ্মের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। এসময় নিরুপায় হয়ে তিনি ১০৮তম পদ্মস্বরূপ তাঁর নিজের চোখ উপড়ে নিতে উদ্যত হন। কথিত আছে যে, পতিতপাবন রামের চোখকে নীল পদ্মের সঙ্গে তুলনা করা হত বলে তাঁর অপর নাম ছিল ‘পদ্মলোচন’। যাহোক, মা দুর্গা রামের একনিষ্ঠতা দেখে খুশি হয়ে স্বয়ং রামের সামনে আবির্ভূতা হন এবং দৈত্যরাজ রাবণকে যুদ্ধে পরাজিত করার জন্য রামচন্দ্রকে আশীর্বাদ করেন। মা দুর্গার এই অসময়ে আবাহন বাংলায় ‘অকালবোধন’ হিসাবে পরিচিত হয়। তারপর থেকেই শরৎকালে দেবী দুর্গার পূজা প্রচলিত হয়। শরৎকালীন দুর্গাপূজা শারদোৎসব নামে পরিচিত হয়। বসন্তকালীন দুর্গাপূজা বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত যা ঐতিহ্যগতভাবে মূল দুর্গাপূজা হলেও শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের উন্মাদনায় তা প্রায় হারিয়ে গেছে।
আগামীকাল শুক্রবার মর্ত্যে ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। আর পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের চার দিনের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ার দিনের অশ্রু। দশমীর পূজার বিকেলে বিসর্জন সুরমা তীরে। এর মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটবে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার।