আজ মহাসপ্তমী

স্টাফ রিপোর্টার
দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা। ষষ্ঠী তিথিতে সোমবার বাদ্যের সঙ্গে উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ আর কাসর ঘণ্টা বাজিয়ে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় বিহিতপূজার পর দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে হয়েছে মূল দুর্গোৎসবের সূচনা। সন্ধ্যায় ম-পে ম-পে বন্দনা পূজা বা বোধন শেষে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল দুর্গোৎসব।
এই বোধন আবার অকাল বোধন হিসেবে খ্যাত। হিন্দু শাস্ত্র মতে, সূর্যের উত্তরায়ন দেবতাদের সকাল। উত্তরায়নের ছয় মাসকে দেবতাদের একদিন হিসেবে গণ্য করা হয়। সকালে সমস্ত দেব-দেবীর পূজা করা হয়। আবার দক্ষিণায়ন শুরু হলে ছয় মাসের জন্য নিদ্রা যান সমস্ত দেব-দেবী। এই দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত। রাতে দেব-দেবীর পূজা করা হয় না। কিন্তু দক্ষিণায়নের ছয় মাসের মধ্যেই দুর্গাপূজা হয় বলে বোধনের মাধ্যমে আগে দেবী দুর্গাকে ঘুম থেকে তোলা হয়। পুরাণে এর সঙ্গে একটি কাহিনিও জড়িত। রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে দুর্গার বোধন করেছিলেন রামচন্দ্র। এর পর দুর্গার আরাধনা করে শক্তি ও সৌভাগ্যের প্রার্থনা করেন তিনি। অকালে দুর্গাকে জাগিয়ে তোলা হয়েছিল বলেই একে অকাল বোধন বলা হয়ে থাকে।
আজ মহাসপ্তমী। দুর্গাপূজা ক্রমশ এগিয়ে চলেছে মধ্যগগণের দিকে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। এরপর দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। নবপত্রিকা স্নান দিয়ে শুরু হবে মা দুর্গার আরাধনা। এরপর দেবী ঘট বসিয়ে সঙ্কল্পের পালা। ফলনের দেবী হিসেবে মহা-সপ্তমীতে মা দুর্গার পূজা হয়। অন্যান্য আরও ৮টি গাছের সাথে বেল গাছের শাখা কেটে রাখা হয়। এই নয়টি গাছের শাখাকে স্নান করিয়ে পূজার জায়গায় নিয়ে আসা হয় এবং এর পরেই মাটির প্রতিমায় হয় প্রাণ প্রতিষ্ঠা। বলা হয় দুর্গা পুজোর এই ৫ দিনে যত পূজা হয় তার মধ্যে মহাসপ্তমীর পূজাটাই সবচেয়ে বেশি সময়ের। অর্থাৎ সময়সাপেক্ষ পূজা।
এদিকে শারদোৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ এড়াতে গত বছরের মতো এবারও পূজাম-পগুলোয় দুর্গোৎসব আয়োজনে মানতে হচ্ছে বাড়তি সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি। পূজার আয়োজনকে ঘিরে নানা বিধিনিষেধের কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এরই মধ্যে। গত বছরের মতো এবারও উৎসব-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে এ পূজাকে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা যেমন থাকবে না, তেমনি বিসর্জনের শোভাযাত্রাও এবার হবে না।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর দেবীদুর্গার আবাহন বা মহালয়ার মধ্য দিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। সাধারণত দেবীপক্ষ শুরুর সাত দিন পর পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে থাকে। তবে এবার পঞ্চমীর বোধন ও ষষ্ঠী তিথি একই দিনে পড়ায় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর দিনক্ষণও এক দিন এগিয়ে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার মহাসপ্তমী, আগামীকাল বুধবার মহাষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী এবং শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন হবে।