আধা কিলোমিটার পথ যেতে ঘুরতে হয় ১০ কিলোমিটার

বিশেষ প্রতিনিধি
আধা কিলোমিটার অংশে কাজ না হওয়ায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১১ কিলোমিটার সড়ক কাজে আসছে না মানুষের। আধা কিলোমিটারের জন্য ১০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয় লাখো মানুষকে। জেলার জগন্নাথপুর ও ছাতকের মধ্যবর্তী পাগলা-জগন্নাথপুরের যোগননগর থেকে হায়দারপুর কৈতক সড়কে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কমপক্ষে ৩০ টি গ্রামের মানুষকে।
জগন্নাথপুরের যোগননগর ও ছাতকের হায়দারপুর- কৈতক সড়ক ছাতকের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এবং জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নবাসীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ছাতকের পশ্চিমাঞ্চলের কমপক্ষে ১৫ টি গ্রামের মানুষ এই সড়ক দিয়ে পাগলা-জগন্নাথপুর আউশকান্দি সড়ক ব্যবহার করে জেলা সদর সুনামগঞ্জে আসেন, একইভাবে এই সড়ক দিয়ে রানীগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকায়ও যাতায়াত করতে পারেন। একইভাবে জগন্নাথপুরের কলিকলিয়া ইউনিয়নবাসীর গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে কম সময়ে বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াত করতে পারেন কলকলিয়া ইউনিয়নের কমপক্ষে ১৫ গ্রামের বাসিন্দাগণ। এই সড়ক ব্যবহার না করতে পারলে বিভাগীয় শহর সিলেটে যেতে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার ঘুরতে হবে এই অঞ্চলের মানুষকে।
দুই বছর আগেই এলাকাবাসী দাবির প্রেক্ষিতে দুটি বড় সেতু নির্মাণ করে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ হয়। এস এম নুরুল ইসলাম নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কের বেশিরভাগ অংশের কাজ শেষ করলেও এক কিলোমিটার অংশ বাকী রেখেই কাজ বন্ধ করে চলে আসে।
পরে এলাকাবাসী এই নিয়ে মানববন্ধন বিক্ষোভ করার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি আরও আধা কিলোমিটারের মত কাজ করে আবারও কাজ বন্ধ করে চলে এসেছে।
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহেল আহমদ বললেন, যোগননগর-শ্রীপতিপুর-হায়দারপুর-কৈতক সড়কের এক কিলোমিটার অংশ কাজ না হওয়ায় তিন বছর হয় এই সড়ক এলাকাবাসীর কাজে আসছে না। সম্প্রতি আধা কিলোমিটার কাজ করে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। যে অংশে কাজ বাকী আছে ওখানে কাঁদা লেগে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলে এই সড়ক দিয়ে পায়ে হেটেই যাতায়াত করা যাচ্ছে না। যানবাহন চলবে কীভাবে। সামান্য অংশের জন্য ১১ কিলোমিটার সড়ক ২৫-৩০ টি গ্রামের মানুষ ব্যবহার করতে পারছেন না।
কলকলিয়া শাহ্জালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বললেন, শ্রীপতিপুরের পাশে ডাউকা নদীর উপর সেতু হয়েছে। কিন্তু যোগননগর থেকে আধা কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়নি। এই অংশকে কমপক্ষে ৩ ফুট উঁচু করে পাকা করতে হবে। এই সড়ক হলে এই দিকেই কৈতক হয়ে কম সময়ে মানুষ সিলেট যেতে পারবে।
কলকলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজালাল মহা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বললেন, সড়কটির কাজ শেষ না হওয়ায় ছাতকের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যে সব শিক্ষার্থী শাহজালাল মহা বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে, তাদের যাতায়াত দুর্ভোগ অনেক দিনের। এই পথ দিয়ে মানুষ কম সময়ে সিলেট যেতে পারে। আধা কিলোমিটার অংশ কাজ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পথ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পথ ঘুরে এখানকার মানুষকে তখন সিলেটে যেতে হয়। এখনো (এই মৌসুমে) এই সড়কে কাজ করা সম্ভব। আর কয়েকদিন পর কাজ করতে সমস্যা হবে। পানি ওঠে যেতে পারে। তখন আর এক বছর দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল হক বললেন, ১১ কিলোমিটার এই সড়কের আধা কিলোমিটারেরও কম অংশে কাজ বাকী। ওখানে কার্পেটিং হবার কথা ছিল। কিন্তু এই অংশে নরম মাটি এবং বর্ষায় পানিও ওঠে যায়, এজন্য আরসিসির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সপ্তাহে এই প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদন হবার কথা। আরসিসির প্রস্তাব অনুমোদন হলে ঠিকাদারের কাজ করতে সমস্যা হবে না।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, এই সড়কের সামান্য অংশের কাজ বাকী। ওখানে ছোট একটি কালভার্ট ভেঙে আমরা বড় কালভার্ট করতে চাচ্ছি। কিছু অংশে আরসিসির কাজ করা জরুরি। এলজিইডি’র সদর দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দলও এই অংশ সম্প্রতি দেখে গেছেন। দুয়েক দিনের মধ্যেই ওখানে কীভাবে কাজ হবে, এমন সিদ্ধান্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানাবেন। তখন কাজ করতে ঠিকাদারের আর কোন সমস্যা থাকবে না।