আনন্দমুখর করচার হাওরপাড়

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ^ম্ভরপুর
বিশ^ম্ভরপুরে মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপি নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। লোকায়ত বাংলার হাজার বছরের লোকসংস্কৃতির একটি অংশ নৌকাবাইচ। এক সময় এ দেশে যোগাযোগ ছিল নদী কেন্দ্রিক আর বাহন ছিল নৌকা। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ আয়োজন, উৎসব ও খেলাধুলা সবকিছুতেই ছিল নদী ও নৌকার সরব আনাগোনা। তাইতো প্রতিযোগিতার প্রথম দিন বাইচ উপভোগ করার জন্য হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে হাওর বিলাস সংলগ্ন করচার হাওর পাড়ে। প্রতিযোগিতায় স্থানীয় সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ধশতাধিক নৌকা অংশ নেয়।
রবিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিযোগিরা নানা রঙে নৌকা সাজিয়ে করচার হাওরে এসে অবস্থান নেন। এসময় নেচে গেয়ে হাওর বিলাস এলাকাকে উৎসবমুখর করে তুলেন মাঝিরা। প্রতিযোগিতা দেখতে নারী, পুরুষ, যুবক যুবতী, শিশু-কিশোর থেকে বৃদ্ধ সহ নানা বয়সের মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় ভরে যায় হাওর পাড়। গ্রামবাংলায় নৌকাবাইচের কদর এখনো ব্যাপক। নৌকাবাইচে আমজনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই তার প্রমাণ। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় করচার হাওর পাড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। নৌকা বাইচের প্রথম দিনের ছোট ছোট নৌকাগুলো ছিল সরু ও লম্বাটে। প্রায় প্রতিটি নৌকাই সুন্দর করে সাজানো ছিল।
এদিকে প্রতিযোগিতাকে প্রাণবন্ত করতে সকাল থেকেই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা নৌকায় উন্মুক্ত মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। উৎসুক দর্শকদের মধ্যে অনেকে ভাড়া করা নৌকায় উঠে নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে উঠেন। বহু লোকের সমাগমে পুরো এলাকা আনন্দমুখর হয়ে ওঠে।
এর আগে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ মানিক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পলাশ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম, সলুকাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী তপন, ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী।
আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দিবেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন। আজ সোমবার দুপুর ১২টায় শুরু হবে দ্বিতীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।