আমনের ফলন কমার শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
দফায় দফায় বন্যার কারণে সুনামগঞ্জে সময়মতো শুরু হয় নি আমনের আবাদ। কিছু কিছু জমি থেকে পানি কমলেও বেশিরভাগ এলাকায় জমি থেকে পানি এখনো নামে নি। জমিতে পানি থাকায় এবার বীজতলা তৈরি হয়েছে দেরিতে। তাই বীজতলার চারাগুলো এখনো রোপনের উপযোগী হয় নি। দেরিতে চাষাবাদ শুরু করলে আমনের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। সম্প্রতি বন্যায় কৃষকদের ঘরে থাকা বীজের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে. দেরিতে চাষ হলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি জাতের আমন ধান রোপন করলে, অতি অল্প সময়ে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। সেই জাতের বীজগুলো তারা কৃষকদের মাঝে বিতরণও করেছেন।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বীজতলা তৈরি হয়েছে ৯০ শতাংশ এবং চারা রোপন করা হয়েছে ১ শতাংশ জমিতে। চলতি বছর জেলায় ৮১ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে উফসি, হাইব্রিড, স্থানীয় জাতের আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। যা থেকে উৎপাদিত হবে ১৯ লক্ষ ৯ হাজার ৩৬ মেট্টিক টন চাল।
সরেজমিনে হাওরে ঘুরে দেখা যায়, এখনো চারা রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত হয় নি। অনেক কৃষককে জমির আইল ঠিক করতে দেখা গেছে। মাঝে মাঝে কিছু জমিতে হাল চাষ হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামায় বীজতলা অনেক দেরিতে তৈরি করা হয়েছে। তাই চাষের জমি এখনো প্রস্তুত করা সম্ভব হয় নি। এছাড়া আগেও কয়েকবার বীজতলা নষ্ট হয়েছে, তাই এখন পানি কমলেও আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করে জমি প্রস্তুত করবেন তারা। এতে আর্থিক এবং ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ বললেন, বীজতলা তৈরি করলেই বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে, এর আগে দুইবার বীজতলা নষ্ট হয়েছে আমার, আমাদের এলাকার কৃষকরা এখনো জমি চাষই করতে পারে নি, আরেকদফা বন্যার পানির অপেক্ষা করছি, সেই পানি এসে চলে গেলে কাজ শুরু করবো।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মো. বিরাজ মিয়া বললেন, ‘আমি ৩ কিয়ার জালা (বীজ) ফেলে আসছি টান (শুকনো) জায়গায়। যদি লাইমলা (দেরিতে) লাগাই তাইলে ফলন কম অইবো, যত আগে লাগানো যায় ততই ভালা।’
একই ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামের গুলফর আলী বললেন, ‘বন্যায় ক্ষতি না করলে আমরা জালা (চারা) তুইল্লা (তুলে) রোপন শেষ করিলিলাম নে, অনেক দেরি অইগেছে।’
আজিমুল আলী বলেন, ‘ঋণ কইরা বীজ আনছি, পানি নামতে দেরি হওয়ায় জালাচার (চারা খেত) করতে দেরি অইছে।’
সুনামগঞ্জের বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব জানান, আমন মৌসুমে দেরিতে চাষাবাদ করা হলে সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। নভেম্বরে তাপমাত্রা যখন ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে চলে আসে, তখন ধান বের হতে পারে না, চিটা হয়ে যায়। আমাদের উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলো স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রোপন করলেও অক্টোবরের শেষের দিকেই ফুল চলে আসে। এতে কোনো চিটা হয় না এবং ধান বের হতেও সমস্যা হয় না। তাই বিনার উদ্ভাবিত ধান বিনা-৭, বিনা-১১, বিনা-১৬, বিনা-১৭ ধান আবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০ টন বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, সুনামগঞ্জে ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে। প্রণোদনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১৬ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে আমন বীজ বিতরণ করা হয়েছে।