আর্থিক সংকটে থেমে আছে মসজিদ নির্মাণ

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের পুরান লক্ষণশ্রী গ্রামের সুরমা নদীরপাড়ে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি গুচ্ছগ্রাম। এই সময় প্রত্যেহ নামাজ পড়তে ১২০ পরিবারের দানের মাধ্যমে টিনের চালা দিয়ে ছোট পরিসরে তৈরি করা হয় মসজিদ। দীর্ঘদিনে পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মসজিদে জায়গা সংকট দেখা দিলে ৫ বছর আগে বড় পরিসরে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে মসজিদ নির্মাণ কাজ এখন থেমে আছে।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আমির আলী, মোহাম্মদ আলী, রইছ মিয়া, ফয়েজুল হক, রেজু আয়াতসহ অনেকে জানান, গত পাঁচ বছর আগে এই মসজিদের পাশে নতুনভাবে আরেকটি একটু বড় পরিসরে পাকা মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে মসজিদের ভিটে তৈরি হয়েছে এবং পাকা পিলারও স্থাপন করা হয়েছে। আর্থিক অভাবে মসজিদের কাজ এখন থেমে আছে। এই মসজিদ নির্মাণের জন্য আমরা অনেকের কাছে আবেদন নিবেদন করেছি। কিন্তু কোনো ফল আসেনি। আমাদের একটি বড় পরিসরে মসজিদ জরুরি প্রয়োজন।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি আবুল মিয়া, নবাব মিয়া, আরজু মিয়া, রইছ মিয়া, আমির উদ্দিন বলেন, গুচ্ছগ্রামের ১২০ পরিবার থেকে এখন হয়েছে দেড় শতাধিক পরিবার। নামাজী হয়েছে প্রায় দেড়শ’। বর্তমানের ছোট টিনশেড মসজিদে এতো মসল্লিার জায়গা হয় না। তাই মসজিদের পিছন দিকে একটি নতুন পাকা মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে গত ৫ বছর আগে। আর্থিক সমস্যায় এখন কাজ থেমে আছে মসজিদের।
মসজিদের মুতাওয়াল্লি মো. রহমত আলী বলেন, এই মসজিদের নির্মাণ কাজের জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি। কিন্তু সবাই শুধু আশ্বাস দেন। এভাবে চলে যাচ্ছে দীর্ঘদিন। নির্বাচনের সময় অনেকে ভোট পাওয়ার জন্য অনেক কথা বলেন। অনেকে মসজিদ তৈরি করে দেবেন এমন কথাও বলেছেন। এখন আর ভুলেও কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
মসজিদের ইমাম মাও. নজরুল ইসলাম বলেন, আল্লাহর ঘর নির্মাণে এতো দিন লাগার কথা নয়। কারণ মানুষের আন্তরিকতার অভাব। এই এলাকা অবহেলিত বলে কেউ নজর দিচ্ছেন না। আমরা আশা করব যারা বলেছেন সরকারী অনুদান দেওয়ার কথা, তাদের যেন এই অনুদানের ব্যবস্থা করার তৌফিক দান করেন আল্লাহ।