আলোচনায় অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগেভাগেই শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জোর প্রচার-প্রচারণা। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঠিক না হলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে নিজেদের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। এ নিয়ে উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ও হাট-বাজারে নির্বাচনী আলাপচারিতা ও চায়ের আড্ডা শুরু হয়েছে। আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গেল দুর্গোৎসবে অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থীই নিজ এলাকার পুজোম-প পরিদর্শনের পাশাপাশি ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে নির্বাচনে নিজেদের ইচ্ছার কথা তুলে ধরেছেন। প্রার্থীদের এই দৌড়ঝাঁপ ভোটাররা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের ব্যাপারটিতে অনাগ্রহের কথাই জানিয়েছে সিংহভাগ মানুষ। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হলে তা নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে না বলেও মত দিয়েছেন তারা। তবে দলীয় প্রতীক ভাগিয়ে এনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীরা। অপরদিকে বিএনপি ঘরানার প্রার্থীরাও দলীয় পরিচয় গোপন রেখে নিজেদের নির্বাচনী কাতারে নিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধ শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ১নং বেহেলী ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার, মো. সারোয়ার হোসেন, রতি রঞ্জন পুরকায়স্থ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের ছেলে মো. আমিনুল হক মনি, সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য, সাবেক ছাত্রনেতা সবুজ কান্তি দাস, ইউপি সদস্য অজিত রায় ও সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুব্রত সামন্ত সরকার ।

(উপরের বাম থেকে) বেহেলী ইউনিয়ন- অসীম তালুকদার, রতি রঞ্জন পুরকায়েস্থ, সুব্রত সামন্ত সরকার, অজিত রায়, মো. সারোয়ার হোসেন, মো. আমিনুল হক মনি; জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন- সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার, জামিল আহমদ জুয়েল, আবুল কালাম আজাদ, মো. জসীম উদ্দিন তালুকদার; ফেনারবাঁক ইউনিয়ন- আজাদ হোসেন বাবলু, জীতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, বিন্দু তালুকদার, সাধন তালুকদার, জুলফিকার চৌধুরী রানা, রফিকুল ইসলাম রানা; সাচ্না বাজার ইউনিয়ন- মো. মাসুক মিয়া, সায়েম পাঠান, মো. বদিউজ্জামান বদি, ইয়াকবীর হোসেন, মকবুল আফিন্দী, কাশেম আখঞ্জী; ভীমখালী ইউনিয়ন- মো. দুলাল মিয়া, আক্তারুজ্জামান শাহ, অ্যাড. মো. আব্দুল খালেক, আক্তারুজ্জামান তালুকদার, অ্যাড. শাহীনুর রহমান; জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন- মো. রজব আলী, এম নবী হোসেন, মো. শহীদুল ইসলাম, মোবারক আলী তালুকদার, আলী আক্কাছ মুরাদ, মো. হাবিবুর রহমান


২নং জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার, উপজেলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জামিল আহমেদ জুয়েল, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মুকিত চৌধুরীর ছেলে ফয়সল চৌধুরী, আব্দুল হক চৌধুরী, মো. জালাল মিয়া, মো. জসীম উদ্দিন তালুকদার।
৩নং ফেনারবাঁক ইউনিয়নে সাধন তালুকদার, জীতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বাবলু, রফিকুল ইসলাম রানা, মো. সাইদুর রহমান, জুলফিকার চৌধুরী রানা, সুইট চৌধুরী, শাহাব উদ্দিন তালুকদার রিয়াজ, সাবেক ইউপি সদস্য নূরু মিয়া, ডা. হারুনূর রশিদ, সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, ইউপি সদস্য আসাদ আলী, সুবোধ চন্দ্র তালুকদার।
৪নং সাচনা বাজার ইউনিয়নে মো. মাসুক মিয়া, সায়েম পাঠান, মকবুল আফিন্দী, মো. বদিউজ্জামান বদি, রেজওয়ান আহমদ আলম, কাসেম আখঞ্জী, ইয়াকবীর হোসেন।
৫নং ভীমখালী ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া, উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. আব্দুল খালেক, ভীমখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান শাহ, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান তালুকদার, আক্তারুজ্জামান তালুকদার, অ্যাড. শাহীনুর রহমান, মো. আবু তাহের তালুকদার, মো. আমিরুল হক।
৬নং জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রজব আলী, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেন, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক আলী তালুকদার, ইউপি সদস্য মো. হানিফ মিয়া, মো. শহীদুল ইসলাম ও আলী আক্কাছ মুরাদের নাম নির্বাচনী আলোচনায় উঠে আসছে। এ নিয়ে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে বাড়তি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে সর্বমোট ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে বেহেলী ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৯২৯ জন, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ২০ হাজার ১৩২ জন, ফেনারবাঁক ইউনিয়নে ২৫ হাজার ৪২২ জন, সাচনা বাজার ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৯৬৮ জন, ভীমখালী ইউনিয়নে ২৩ হাজার ২২১ জন, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৩৮২ জন ভোটার রয়েছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামাঞ্চলে প্রচারণা শুরু হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এখনও কোন নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছে নির্বাচন অফিস।
নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাচনা বাজার ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের মো. উস্তার গনী বলেন, ‘নির্বাচনের হাঁকডাক মোটামুটি শুরু হইয়া গেছে। নির্বাচনে যে যোগ্য তারেই তো আমরা ভোট দিমু। এইতা নির্বাচনও দলীয় প্রতীক না থাকাটাই ভালা। তাহইলে ভোটটা জমব।’
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনাগ্রহের কথা জানিয়ে বেহেলী ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের অঞ্জন রায় বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রতি প্রার্থীদের যে যোগ-জিজ্ঞাসা সেটা ইতিবাচক। তবে সাধারণ মানুষের সেই প্রয়োজনীয়তা যেন শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিকই না হয়। এখন প্রার্থীরা যেভাবে জনসাধারণকে আপন ভেবে বুকে টেনে নিচ্ছেন পরবর্তীতে সেটা অব্যাহত থাকলে তা হবে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল যোগ্যতা প্রদর্শন। আর দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার উৎসাহ কমে যাবে।’
ভীমখালী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আক্তারুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম। এ বছরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমি করোনাকালীন দুর্যোগ, হাওর সমস্যাসহ এলাকার সামাজিক কর্মকা-ে সর্বদাই মানুষের পাশে আছি। আশা রাখি ভোটাররা আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল আহমদ জুয়েল বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলাম। অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছি এবং দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাকে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করেছে। গেল নির্বাচনে আমার প্রাপ্ত ফলাফল বিবেচনায় দল আমাকে মূল্যায়ন করবে, এমনটা প্রত্যাশা করছি।’
বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন আরও প্রায় ৬ মাস বাকি। আর আমি চেয়ারম্যান যেহেতু নির্বাচনে তো আসবই। তবে অন্য প্রার্থীরা যেভাবে প্রচারণা শুরু করেছে আমি জনপ্রতিনিধিত্বশীল কর্মকা-ে ব্যস্ত থাকায় মাঠে যেতে পারছি না। আশা রাখছি বিগত দিনের কর্মকা- বিবেচনায় সাধারণ মানুষ আমাকে পুনর্বার নির্বাচিত করবে।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমাদের কমিশন থেকে এখন যে নির্দেশনা আছে সেটা পৌর নির্বাচনে প্রস্তুতির চিঠি এসেছে। ইউপি নির্বাচনের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নেই। তবে আগামী মার্চ থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত, চিঠি কিংবা নির্দেশনা আমাদেরকে দেওয়া হয়নি।