আষাঢ়ী পূর্ণিমা

এস ডি সুব্রত
“বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত আষাঢ়ী পূর্ণিমা এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি স্মরণীয় বরণীয় আত্মবোধনের দিন নির্মল আনন্দের শ্বাশত অনুভূতি।”
বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি হচ্ছে আষাঢ়ী পূর্ণিমা, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব আষাঢ়ী পূর্ণিমা। এ পূণ্য তিথিতে রাজকূমার সিদ্ধার্থের মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধ গ্রহণ, গৃহত্যাগ ও ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র দেশনা হয়েছিল। এই তিথিতে ভিক্ষুদের বর্ষাবাস, মাতৃদেবীকে ধর্মদেশনার জন্য তুষিতস্বর্গে গমন এবং ও শ্রাবস্তীর বৃক্ষমূলে ঋষি প্রদর্শন হয়। সাধারণ বৌদ্ধ এবং ভিক্ষু সবার কাছে আষাঢ়ী পূর্ণিমা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পূর্ণিমার সাথে বুদ্ধের জীবনের নানা ঘটনা প্রবাহ জড়িয়ে রয়েছে। এক আষাঢ়ী পূর্ণিমায় বুদ্ধ সিদ্ধার্থ রুপে রাণী মহামায়ার গর্ভে প্রবিষ্ট হয়েছিলেন।
“মহান ক্ষণে রাজ কুমার সিদ্ধার্থ গৌতম
প্রতিসন্ধ গ্রহন করেন মহামায়ার জঠরে
অতঃপর দেবদহের লুম্বিনী কাননে
মহামতি বুদ্ধ আসেন ধরাধামে।”
ভিক্ষুদের অন্যতম বার্ষিক আচার বর্ষাবাস এই আষাঢ়ী পূর্ণিমায় শুরু হয়েছিল যা শেষ হয় আশ্বিনী পূর্ণিমাতে। বৌদ্ধ ধর্ম মতে যে ভিক্ষু বর্ষাবাস যাপন করেন, তিনি কঠিন চীবর লাভের যোগ্যতা অর্জন করেন। বর্ষা বাসের জন্য ভিক্ষুগণ সংঘারাম, বিহার ও সাধনা কেন্দ্র বেছে নেন । এ পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্যাগোডায় গিয়ে বুদ্ধের প্রার্থনার মাধ্যমে শীলে অধিষ্ঠিত হন এবং তিনমাস ব্যাপী বর্ষাবাস পালন করেন এবং বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের জন্য বেরিয়ে পড়েন।
“আষাঢ়ী পূর্ণিমার শুরু থেকে
একই বিহারে একটানা তিনমাস
ভিক্ষুকদের ধর্মীয় সাধনায়
মগ্ন থাকার নামই বর্ষাবাস।”
বৌদ্ধ ধর্ম মতে পবিত্র আষাঢ়ী পূর্ণিমার দিন থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষা বাস পালন করে থাকে। বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে বৌদ্ধ ভিক্ষু তথা সাধকদের বর্ষাবাস পালনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্ষার সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একই বিহারে একটানা তিনমাস ধ্যান সাধনায় মগ্ন থাকাকে বৌদ্ধ ধর্মে বর্ষাবাস বলা হয়।
“আষাঢ়ী পূর্ণিমার এক গভীর রাতে
স্ত্রী যশোধরা আর পুত্র রাহুল কে ছেড়ে
রাজ সিংহাসনের মোহ মায়া তুচ্ছ করে
হয়ে যান গৃহত্যাগী বুদ্ধ্ত্ব লাভে।”
আষাঢ়ী পূর্ণিমার এক গভীর রজনীতে গৌতম বুদ্ধ স্ত্রী যশোধরা আর পুত্র রাহুল কে ঘুমে রেখে রাজ সিংহাসনের মায়া ত্যাগ করে কেশছেদন করে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। এর পর মহাবোধিবৃক্ষমূলে ৬ বছর কঠোর সাধনার মাধ্যমে বোধিজ্ঞান অর্থাৎ বুদ্ধত্ব লাভ করেন।
“আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে ঋষিপতন মৃগদাহে
মহামতি ভগবান বুদ্ধের ধর্মচক্র
প্রবর্তনের সূত্র দেশনা হয়েছিল
এই ক্ষণে পঞ্চবর্গীয় ভিক্ষুদের নিকটে।”
বুদ্ধত্ব লাভের ২ মাস পর আষাঢ়ী পূর্ণিমায় সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাহে তিনি প্রথম পঞ্চ বর্গীয় শিষ্যদের নিকট ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্রের মাধ্যমে তার ধর্ম প্রচার শুরু করেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর যাবত জগতের কল্যাণে নির্বাণ প্রচার করেন। তৎকালীন জম্বুদীপসহ সারা বিশ্বে বৌদ্ধ ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে। আষাঢ়ী পুর্ণিমা তিথি সকল বৌদ্ধদের কাছে একটি পবিত্র দিন।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক