আসামীদের বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের পল্লীতে শিশু মারিয়া আক্তার মিম (৪) হত্যা মামলার আসামীদের গবাদি পশুসহ মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে এসব লুটপাট করেছে বলে গত বৃহস্পতিবার দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মিম হত্যা মামলার প্রধান আসামী দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী পিয়ারা খাতুন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভূমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের কচুদাইর গ্রামের মৃত. আব্দুল খালেকের পুত্র সুনাম উদ্দিনের সাথে পার্শ্ববর্তী দোয়ারা উপজেলার লামাসানিয়া গ্রামের মৃত. আলী আহমদের পুত্র আব্দুর রশিদের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বিচার সহ আদালতে মামলাও রয়েছে পক্ষে বিপক্ষে। ১২ সেপ্টেম্বর সকালে আব্দুর রশিদের পুত্র সাদ্দাম হোসেন বিরোধকৃত ভূমিতে চাষাবাদ করতে যাওয়ার সময় পথে বাধা দেয় সুনাম উদ্দিনের স্ত্রী আমিদা বেগম। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় হামিদা বেগমের কোলে থাকা তার নাতনী শিশু মারিয়া আক্তার মিম গুরুতর আহত হয়। ওইদিন দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মীমের মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর সুনাম উদ্দিন বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১৪) দায়ের করেন। ওই দিন মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মিজান ফারুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে আসামী আব্দুর রশিদ সহ অন্যান্য আসামীরা গাঁ ঢাকা দেয়। এ সুবাদে প্রতিপক্ষরা আসামীদের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। পুরুষ শূন্য আসামীদের বাড়ি থেকে ৮টি গরু, নগদ ১ লাখ টাকা, ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, ধান-চাল, বাসনপত্র, ভূমি সংক্রান্ত দলিল সহ মালামাল লুট করে নেয়। বিকেলে আব্দুর রশিদের পুকুরে জাল ফেলে দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মাছও লুট করে নেয় তারা। এতে আসামী পক্ষে অন্তত ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে বাড়িতে থাকে আব্দুর রশিদের বৃদ্ধ মা শুকুর বানু আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। লুটপাটের ঘটনায় সুনাম উদ্দিন, আহমদ আলী, আবুল কালাম সহ ২০ জনের বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আব্দুর রশিদের স্ত্রী পিয়ারা খাতুন।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ দেব দুলাল ধর অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে জানান, তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।