আহবায়ক কমিটিতেই ২৮ বছর পার

সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা
আহবায়ক কমিটি গঠনের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি আওয়ামীলীগের অঙ্গ-সংগঠন যুবলীগের শাল্লা উপজেলা শাখা। বর্তমানে কোন কমিটি না থাকায় স্থবির হয়ে আছে যুবলীগ শাল্লা শাখার যাবতীয় কার্যক্রম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হলেও শাল্লায় যুবলীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে মাহবুব সোবহানী চৌধুরীর হাত ধরে। ১৯৯২ সালে মাহবুব সোবহানী চৌধুরীকে আহবায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। মাহবুব সোবহানী চৌধুরী বর্তমানে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বর্তমান উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি। এরপর ২০০১ সালে তৎকালীন সুনামগঞ্জ জেলা আহবায়ক অ্যাড. আব্দুল করিম সুনামগঞ্জ জেলার অন্যন্য উপজেলার ন্যায় শাল্লা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি ভেঙে
দেন। শেষে ২০০৪ সালে মো. তকবীর হোসেনকে আহবায়ক ও পীযুষ দাসকে যুগ্ম আহবায়ক করে ২৮ সদস্য আহবায়ক কমিটি করে দেন তখনকার জেলা আহবায়ক এড. আব্দুল করিম। এরপর ২০১১ সালে মো: তকবীর হোসেনকে আহবায়ক এবং পীযুষ দাস ও এড. দীপু রঞ্জন দাসকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি করে দেন তখনকার স্থানীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। কমিটিকে ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্নাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বিগত আহবায়ক কমিটিগুলোর মত বর্তমান আহবায়ক কমিটিও পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে ব্যর্থ।
৫ বছর যাবত উপজেলা যুবলীগের কোন কমিটি না থাকায় সর্বশেষ আহবায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যই রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়, একারণে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না, দলীয় গণতান্ত্রিক চর্চাও বিঘিœত হচ্ছে।
যুবলীগ কর্মী অজয় তালুকদার, ফেনী ভূষন সরকার, মো. ফখরুল ইসলাম ও অরিন্দম চৌধুরী অপু বললেন- বর্তমানে শাল্লায় যুবলীগের কোন কমিটি নেই। বিগত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়কদ্বয় সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারেন নি। যুবলীগের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তারা কোন কর্মসূচী পালন করেন নি। আমরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল-আমিন চৌধুরীকে প্রধান অতিথি করে আলোচনা সভা ও কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছি। তারা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন নি। জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি যদি আমাদেরকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার দায়িত্ব দেয়, তাহলে ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিয়ে শাল্লায় যুবলীগ প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর যাবত কমিটি না হওয়ার দুর্নাম গোছাব।
অ্যাড. দিপু রঞ্জন দাস বলেন- দীর্ঘ ৯ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে না পারার ব্যর্থতার দায়ভার অবশ্যই আমাদের উপর বর্তায়। রাজনৈতিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা পারি নি। বর্তমানে আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িত। নতুনরা যদি পারে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
পীযুষ দাস বলেন- আমাদেরকে ব্যার্থ বলা ঠিক না। আমরা সম্মেলনের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। তখনকার উপজেলা আওয়ামীলীগের বিমাতাসুলভ আচরণের জন্য আমরা পারিনি। দলের দু:সময়ে আমরাই ছিলাম দলের বিভিন্ন কর্মসূচীর অগ্রভাগে থাকি। বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দও দলের বিভিন্ন কর্মসূচীতে আমাদেরকে অবগত করেন না। তাই আমরা দলীয় কর্মসূচীতে নিস্ক্রিয়।
তকবীর হোসেন বলেন- ২০০৪ সালে আহবায়ক হওয়ার পর বিএনপি সরকারের রোষানলে পরে ২১ টি হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছিলাম। এরপর ২০১০ এসে আমার রাজনৈতিক অভিভাবক প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সবগুলো মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেছিলেন। ২০১১ সালের পর নেতার নির্দেশমত ৪ ইউনিয়ন ও ৩৬টি ওয়ার্ড কমিটি করেছিলাম। সম্মেলনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও উনার অসুস্থতার কারণে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা যায়নি।
জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল বলেন- যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে কিছুদিনের মধ্যেই শাল্লা যুবলীগের বিষয়ে করণীয় ঠিক করা হবে।