- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

আয়কর মেলা ও করদাতাদের প্রত্যাশা

এ জেলায় আয়কর মেলা শুরু হয়েছে শনিবার। চলবে চার দিন। কয়েক বছর ধরে নিয়মিত আয়কর মেলার আয়োজন হতে থাকায় করদাতাদের মধ্যে এই মেলা নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সকলেই মোটামুটি আয়কর মেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। নিজেদের রিটার্ন ও আয়কর জমা দানের জন্য আয়কর অফিসের চাইতে মেলাতেই স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন তারা। মেলা আয়োজনের সফলতা এতে প্রমাণিত। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এবার এই মেলা নিয়ে কিছু করদাতা বিরূপ মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন স্টলে যারা দায়িত্ব পালন করেন তাঁদের আন্তরিকতা নিয়ে এবার করদাতাদের কিছু অংশ বেশ বিরক্ত। শনিবার দুপুরের পর যেসব চাকুরিজীবী রিটার্ন জমা দিতে এসেছিলেন তাদের অনেককেই রিটার্ন জমা ছাড়াই ফিরে যেতে হয়েছে। চাকুরিজীবীদের জন্য সার্কেল-১৮ এর স্টলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাকি বিকেলের দিকে তাদের রিটার্ন জমা নেননি সময়ের অজুহাতে। এইসব চাকুরিজীবী বলছিলেন, শুনবার তাদের অফিস বন্ধ ছিল, তাই রিটার্ন জমা দিতে এসেছিলেন। রবিবার থেকে অফিস খোলা থাকায় মেলার পরবর্তী তিন দিন তারা আর মেলায় এসে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না। তারা অভিমত ব্যক্ত করছিলেন, মেলার অপরাপর স্টলগুলো ওই সময় বেশ ফাঁকাই ছিল। শুধু ভিড় ছিল সার্কেল-১৮ এর স্টলে। কর্তৃপক্ষ যদি ১৮ সার্কেলের কিছু করদাতাকে ভাগ করে অন্য স্টলগুলোতে পাঠিয়ে দিতেন তাহলে মেলায় আগত সকলেই রিটার্ন জমা দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতেন। এছাড়া তারা বন্ধের দিন মেলার সময়সীমাও কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া যেত বলে অভিমত প্রকাশ করছিলেন। যুক্তি হিসাবে তারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য রিটার্ন গ্রহণের কার্যক্রম কিছুটা দেরিতে শুরু হওয়ার কথা বলছিলেন। তাঁদের এইসব যুক্তি চমৎকার। করদাতা নাগরিক সমাজ চাইছেন কর দিতে, দেশের অর্থনীতির জন্য এর চাইতে বড় সুখবর আর কী হতে পারে? ব্যবস্থাপনাগত উন্নয়ন সাধন করে যদি এখানে একটু বেশি সেবার ব্যবস্থা করা যায় তাতে ক্ষতি কী? মেলা তো আনন্দ উৎসবের সাথে সমার্থক। আয়কর অফিস সনাতনী ধ্যান-ধারণা অনুসারে একটি হয়রানিমূলক দপ্তর বলে বিবেচিত হত। এখন এই দপ্তরটি অনেক আধুনিক হয়েছে। কর্মকর্তাদের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। জনসেবার মনোবৃত্তিও বেড়েছে। বছর বছর করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি ও কর পরিশোধের পরিমাণ বাড়ার পিছনে এইসব পরিবর্তনের যোগসূত্র একেবারে প্রত্যক্ষ। সুতরাং মেলা নিয়ে করদাতাদের এই উৎসাহ ও উদ্দীপনাকে কাজে লাগাতে হবে। কর প্রদানকে আনন্দোৎসবেই পরিণত করতে হবে।
দেশ চলে করের টাকায়। দেশের উন্নয়ন হয় করের টাকায়। এই কর দিয়ে থাকেন দেশের সাধারণ মানুষ। কেউ প্রত্যক্ষভাবে কেউ পরোক্ষভাবে। প্রত্যক্ষ করদাতার চাইতে পরোক্ষ করদাতার সংখ্যা বহু বহু গুণ বেশি। একেবারে দিনমজুর থেকে শিল্পপতি পর্যন্ত সকলেই অহোরাত্রি দৈনন্দিন অর্থ ব্যয় করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন। এই তুলনায় প্রত্যক্ষ করদাতার সংখ্যা অনেক কম। আয়কর মেলার উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে প্রত্যক্ষ করদাতার সংখ্যা কম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেছিলেন, এখন সারা দেশে যে পরিমাণ করদাতা, এক ঢাকা সিটিতেই এর কাছাকাছি সংখ্যক করদাতা থাকার কথা। তিনি করদাতা সংখ্যা বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আমাদের কথাও এই। এখনও কর প্রদানযোগ্য সকল ব্যক্তি টিআইএনধারী করদাতায় পরিণত হননি। সকল করদাতা উপার্জনের আনুপাতিক হারে কর পরিশোধ করেন না। এই ঘাটতিগুলো মিটাতে পারলে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির স্বাস্থ্য অনেক ভাল হয়ে উঠবে। এই জায়গায় আয়কর অফিসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তথা আয়কর মেলাগুলোর সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করার সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি।

  • [১]