আ.লীগের দুই নেতার লড়াই

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সুনামগঞ্জে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। শেষ দিনে কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় দুই আওয়ামী লীগ নেতার নির্বাচন যুদ্ধ জমবে। প্রতীক নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দুই সহ-সভাপতি আজ (সোমবার) থেকে প্রচারণায় নামবেন।
চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন। বিগত নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট এবারও প্রার্থী।
জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুকুট প্রায় ২০ বছর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনকে বিগত নির্বাচনে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত নির্বাচনে মুকুট পেয়েছিলেন ৭৮২ ভোট এবং ব্যারিস্টার ইমন ৪২০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এবার ব্যারিস্টার ইমনের বড় ভাই খায়রুল কবির রুমেন দলীয় মনোনীত প্রার্থী ।
নুরুল হুদা মুকুট সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের তিনবারের সভাপতি, এফবিসিআইয়ের দুইবারের পরিচালক এবং দুইবার সিআইপিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থাকায় জেলাব্যাপী দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ট যোগাযোগ আছে। তাঁর (নুরুল হুদা মুটের) ভাই খায়রুল হুদা চপল জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় ভোটে তাঁর (চপলের) প্রভাবও কাজে লাগবে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী মরহুম আব্দুর রইছ এবং মরহুম রফিকা রইছ চৌধুরী’র পরিচিতি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন তাঁদের সন্তান খায়রুল কবির রুমেন। ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমনও নেমেছেন দলীয় সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রুমেনের প্রচারণায়।
রুমেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় শাহ্ আমানত হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটরের দুই বার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দলীয় সমর্থন পেতে এসব পরিচিতি কাজে লাগিয়েছেন রুমেন। ভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ নানাভাবে পারিবারিক পরিচিতি তুলে ধরছেন তাঁর সমর্থকেরা।
জেলাজুড়ে দুই প্রার্থীর ভিন্ন ভিন্ন ইমেজ তুলে ধরার পাশপাশি কর্মী-সমর্থকরা স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের বাড়ী বাড়ী যাচ্ছেন ভোট চাইতে। দুই নেতাই বলেছেন, আজ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে তাঁদের।
আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী খায়রুল কবির রুমেন বললেন, আমি দলের নির্দেশে প্রার্থী হয়েছি। দল যেহেতু আমাকে প্রার্থী করেছে, দলীয় কর্মী-সমর্থক ভোটাররা আমাকে ভোট দেবেন বলেই প্রত্যাশা আমার। দলের শৃঙ্খলা ও আদর্শের প্রতি কখনোই অবজ্ঞা করে নি আমার পরিবারের কেউ। আমাকে কেউ বঞ্চিত করবেন না বলেই আশাবাদী আমি।
নুরুল হুদা মুকুট বলেছেন, একবছর আগে থেকে নির্বাচনী কাজেই আছি। জেলার ১২ উপজেলায় স্ব-শরীরে গিয়ে ইতিমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে দেখা করা আমার শেষ। নির্বাচনে প্রার্থী হবার জন্য অনেক আগে থেকেই ভোটারদের ছাপ রয়েছে আমার। এই নির্বাচনে দলের কোন প্রতীক নেই, প্রার্থী হতে দলীয় কোন বাধাও আমার উপর ছিল না। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা নিবেদিত এবং কর্মীবান্ধব হিসাবেই জানেন আমাকে, আশাকরছি কেউই ভোটে বঞ্চিত করবেন না, দল-মতের উর্ধ্বেই ভোট দেবেন সকলে।
আয়তন ও জনসংখ্যায় হাওরাঞ্চলের বড় জেলা সুনামগঞ্জ। জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার ৮৮ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, চার পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ১১ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা আগামী ১৭ অক্টোবর ভোট দেবেন। মোট ভোটার ১২২৯ জন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি।