আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা রাজধানীমুখী

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক দোয়ারার ১৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের বলয়ের প্রার্থীতা নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের নেতারা রাজধানীতে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ মনোনয়ন পেতে দলীয় ফরম পূরণ করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিয়েছেন, কেউ আজ বুধবার জমা দেবেন।
ছাতক ও দোয়রাবাজার আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিধাবিভক্ত। একাংশের নেতা স্থানীয় সংসদ মুহিবুর রহমান মানিক এবং অপরাংশের নেতা ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও তার ভাই শামীম চৌধুরী।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচন দুই বলয়ের পাল্টাপাল্টি অবস্থান থাকে এই দুই উপজেলায়। স্থানীয় নির্বাচনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দলের প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই হয় বিদ্রোহী প্রার্থীর। আগামী ১১ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনেও দুইপক্ষ মরিয়া হয়ে নেমেছে দলীয় মনোনয়ন নিজেদের বলয়ের প্রার্থীর পক্ষে নিশ্চিত করতে। মনোনয়ন না পেলে হয়তোবা এদের মধ্য থেকেই হবে দলীয় বা বিদ্রোহী প্রার্থী।
ছাতক ও দোয়ারা আওয়ামী লীগের বিবদমান দুইপক্ষই মঙ্গলবার নিজেদের বলয়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে জমা দিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলাতেই মুহিবুর রহমান মানিক সমর্থিতদের তালিকা দীর্ঘ।
এই অংশের নেতা ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, মনোনয়ন যারা চেয়েছেন, তাদের মধ্যে সংগঠনে সক্রিয়দের নাম পর্যায়ক্রমে প্রস্তাব আকারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের কাছে জমা দিয়েছেন তারা। ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাড়া অন্য সকল ইউনিয়নেই তিনের অধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম গেছে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে বলে জানান তিনি।
এই উপজেলার অপরাংশের নেতা আজমল হোসেন সজল (আবুল কালাম সমর্থক অংশের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক) জানালেন, তাদের সমর্থকদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তালিকা কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুটের কাছে দিয়েছেন তারা।
এই অংশের প্রস্তাবিত সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- ছাতক ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, ইসলামপুর ইউনিয়নে জয়নাল আবেদীন, কালারুখায় রুবেল আহমদ ও আশরাফুল আলম, ছৈলা- আফজলাবাদে শফিকুল হক, দোলারবাজারে আনোয়ার হোসেন, গোবিন্দগঞ্জ- সৈদেরগাঁওয়ে তাহের আহমদ চৌধুরী, দক্ষিণ খুরমায় আবাব মিয়া তালুকদার সাজু, উত্তর খুরমায় আরশ আলী ভাসানি, জাউয়াবাজারে রেজা মিয়া তালুকদার, শাহীন মিয়া ও আলমগীর হোসেন এবং চরমহল্লায় আব্দুস সালাম।
দোয়ারাবাজারের নয় ইউনিয়নে মুহিবুর রহমান মানিক সমর্থক অংশের নেতা উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জমা দিয়েছেন।
ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক জানালেন, তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য তালিকা করা হয়েছে। আপাতত গণমাধ্যমে তালিকা দিতে অপারগতা জানালেন তিনি।
এই উপজেলার অপরাংশের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেকও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে দিয়েছেন।
ফরিদ আহমদ তারেকের দেওয়া সম্ভাব্য নামের তালিকায় থাকা প্রার্থীরা হলেন, মান্নারগাঁওয়ে আব্দুল হান্নান, পা-ারগাঁওয়ে আব্দুল ওয়াহিদ, দোহালিতে শামীমুল ইসলাম ও আব্দুল গণি, দোয়ারা সদরে দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল হামিদ ও আবুল হোসেন, নরসিংহপুরে নূর উদ্দিন, আবুল কালাম হৃদয় ও স্বপন মিয়া, বাংলাবাজারে ইব্রাহিম খলিল, তোফায়েল আহমদ ও সেলিম আহমদ, বোগলায় মাসুক রানা, লক্ষীপুরে মোশারফ হোসেন নজরুল, খলিলুর রহমান ও জিয়াউর রহমান জিয়ার নামের তালিকা করে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে জমা দিয়েছেন তারা। ফরিদ আহমদ তারেক জানালেন, তৃণমুলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন জানালেন, ছাতক ও দোয়ারাবাজারে উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির দেওয়া তালিকা সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেবেন তারা।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বলতে কোন কমিটির অস্তিত্ব নেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা। ছাতক ও দোয়ারাবাজারের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীর নামের তালিকা করে কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা দিয়েছেন।