আ.লীগের ১২০ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম যাচ্ছে কেন্দ্রে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজারের ২০ ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে দ্বিতীয় দফায়। অর্থাৎ ১১ নভেম্বর এসব ইউনিয়নে ভোট। এই ২০ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ কাজ করছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকেই আলাদা আলাদা নাম যাবে কেন্দ্রে। শুক্রবার থেকেই ২০ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই নিয়ে। প্রার্থীরা যার যার বলয়ের নেতাদের কাছে দৌঁড়াচ্ছেন। ¯œায়ুচাপেও ভোগছেন। তৃণমূল ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাতকের ২০ ইউনিয়ন থেকে পাঁচ অক্টোবরের মধ্যে ১২০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় প্রার্থীর নাম যাবে কেন্দ্রে।
ছাতকের লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল হক গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার আগে থেকেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় আছেন আমিরুল হক। বললেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগ করছি। দলের গ্রুপিংয়ের কারণে গেল বছর মনোনয়ন পাই নি। স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, আওয়ামী লীগের ভোটাররা তাকে ভোট না দিয়ে আমাকেই দিয়েছে। এবারও দলের দুই গ্রুপ কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে তালিকা দেবে, এজন্য ¯œায়ুচাপের মধ্যে পড়েছি। একই ধরণের মন্তব্য করলেন, এই উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম আহমেদ চৌধুরী রানা।
লক্ষীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপই প্রার্থী মনোনীত করে কেন্দ্রে নাম পাঠানোর জন্য তৎপর।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশের (ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক সমর্থক অংশ) সভাপতি নজরুল ইসলাম বললেন, সন্ধ্যা ৭ টায় (শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায়) সভা ডেকেছেন তারা। ওখানে সম্ভাব্য ৩ প্রার্থীর নামের তালিকা চূড়ান্ত হবে। আগামীকাল রোববার এই তালিকা উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে পাঠানো হবে। তারা সুপারিশ করে তালিকা কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের কাছে জমা দেবেন।
এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অপরাংশের (ফরিদ আহমেদ তারেক সমর্থক অংশ) সভাপতি শফিকুল ইসলাম রতন বললেন, আগামীকাল শনিবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা করে সন্ধ্যায় ঢাকায় নিয়ে যাবো আমরা। সেখানে আমাদের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক ও যুগ্ম আহ্বায়ক শামীমুল ইসলাম থাকবেন। তাদের মাধ্যমে সম্ভাব্য নামের তালিকা কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিগত বছরে প্রার্থী তালিকায় সুপারিশ করা জহিরুল ইসলাম ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ২০১৩ সালে জহিরুল আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। যেহেতু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ভুল বুঝে ঘরে ফিরেছে, এজন্য তাঁকে সুপারিশ করা হয়েছিল, সে মনোনয়ন পেয়েছিল।
কেবল লক্ষীপুর ইউনিয়ন নয় ছাতকের ১১ ও দোয়ারাবাজারের নয় ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের একই অবস্থা।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, শনিবারের মধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির মাধ্যমে নাম জেলা কমিটির কাছে আসতে হবে। দোয়ারাবাজার কমিটির আহ্বায়ক ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক এবং ছাতক থেকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ফজলুর রহমানের মাধ্যমে সম্ভাব্য নামের তালিকা জেলা কমিটিতে আসবে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশের বাইরে আছেন, পাঁচ অক্টোবর আসবেন। কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয় বোর্ড পাঁচ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরসহ তালিকা কেন্দ্রে জমা দেওয়া হবে। পাঁচ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যন্ত সময় না দিলে, কেবল সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে তালিকা জমা দেবার অনুমতি নেওয়া হবে এবং সভাপতির সঙ্গে ফোনে পরামর্শ করে কেন্দ্রে তালিকা জমা দেওয়া হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতারা ফরিদ আহমদ তারেক ও শামীমুল ইসলামের কাছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম জমা দেবেন। এরা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সুপারিশসহ তালিকা জমা দিয়ে আমাকে কপি দেবার জন্য বলেছি। একইভাবে ছাতক উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মারা যাওয়ায় যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হোসেন সজলকে সকল সম্ভাব্য তালিকা কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে জমা দেবার জন্য বলে দিয়েছি। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি নামের কোন কমিটি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ অনুমোদন দেয় নি। এই কমিটির বৈধতা নেই। এই কমিটি ইউনয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সুপারিশ করারও এখতিয়ার নেই। এই সুপারিশ কোন কাজে আসবে না।