আ.লীগ কর্মীদের মুখে এক, বুকে আরেক’

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রতীক বরাদ্দের পর জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক দুজনেই প্রার্থী হয়েছেন। উপজেলা সভাপতি আকমল হোসেন দলের প্রার্থী, তাঁর প্রতীক নৌকা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর প্রতীক আনারস। আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এই উপজেলায় দলীয় কোন্দলে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে নৌকা পরাজিত হয়। এবারও দুই প্রার্থী হওয়ায় কর্মীদের বিভক্তি তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতা ও স্থানীয় ভোটাররা বলেছেন, এখানকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কর্মীরা মুখে একটা বলেন, বুক দিয়ে আরেকটা করেন।
প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের গ্রামের বাড়ি জগন্নাথপুরে রাজনীতিতে সক্রিয় তাঁর ছেলে আজিজুস সামাদ ডন। অন্যদিকে, পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের নির্বাচনী আসনের একটি উপজেলা এটি। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের বাড়িও এই উপজেলায়। প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলার ৭০ ভাগ ভোটার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হওয়ায় এখানকার নির্বাচনের দিকে নজর থাকে জেলাবাসীর।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণার শুরুর প্রথম দিনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা উপজেলার আশারকান্দিতে প্রচারণা চালিয়েছেন। তার সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি হামিদুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা কবির আহমদ হীরা, যুবলীগ নেতা সোহেল আহমদ প্রমুখ ছিলেন। দলীয় মনোনীত প্রার্থী আকমল হোসেন গেছেন রানীগঞ্জ ইউনিয়নে প্রচারণায়।
প্রচারণার শুরুতেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পথের কাঁটা হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা। যেখানেই নৌকার পোস্টার সাঁটানো হয়েছে, এর পাশেই ঝুলছে আনারসের পোস্টার।
স্থানীয় একজন জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম কর্মী বললেন, আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসাবে পরিচিত এই উপজেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বার বারই হারে নৌকা। এবারও মুখে নৌকা, বুকে আনারস আছে অনেকেরই। এই সুযোগ নেয় অন্যরা। এবারও অন্য প্রার্থীকে সুযোগ করে দেবার প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। এর আগের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনেও এমনটা হয়েছে। আওয়ামী লীগে-আওয়ামী লীগে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি নেতা জয়ী হয়েছেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার এই উপজেলার অন্য প্রার্থীরা হলেন, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর প্রতীক মোটর সাইকেল। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী সৈয়দ তালহা আলম, তিনি খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। আরেক প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ঘোড়া।
দলীয় প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা বললেন, প্রতীক পেয়ে প্রকাশ্য প্রচারণায় নেমেছি। আমার সঙ্গে প্রচারণায় অনেক আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা কর্মী এসেছেন।
আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী আকমল হোসেন বললেন, আমি চেষ্টা করছি, উপজেলার নেতাদের চেয়ে ইউনিয়ন কমিটির নেতাদের কাছে সহযোগিতা বেশি পাচ্ছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম বললেন, জগন্নাথপুরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রাখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমন ঐক্যবদ্ধভাবে না চাইলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয় কঠিন। এর আগেও উপজেলা এবং পৌরসভায় এভাবে হেরেছি আমরা। এখানকার নির্বাচনে কর্মীরা মুখে বলে একটা, বুকে থাকে আরেকটা, কাজ করে অন্যটা। এজন্য আমরা পরাজিত হই। আওয়ামী লীগের প্রতি যাদের দরদ নেই, তারা দলের ভেতরে থেকেও এমনটা চায়।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান দেশের বাইরে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমনের ফোন বন্ধ থাকায় এই বিষয়ে কথা বলা যায় নি।
আজিজুস সামাদ ডন অবশ্য জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের দুই নেতা মনোনয়ন দাখিলের দিনেই এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন। সামনে জাতীয় নির্বাচন, সকলকে এক প্রার্থীর সঙ্গেই থাকতে হবে।