আ.লীগ নেতাকে জিজ্ঞেস না করায়…

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন মাসুদকে জিজ্ঞেস না করে জায়গা বিক্রি করায় বিকাশ রঞ্জন সরকার নামের এক ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের নতুন বাজারে মোশারফ হোসেন মাসুদ ও তাঁর ছেলে সাগর মিয়া বিকাশ রঞ্জন সরকারকে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী একটি ঘরে অবরুদ্ধ থেকে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বলে দাবি করেছেন বিকাশ রঞ্জন সরকার। তবে পুলিশ বলছে, বিকাশ রঞ্জন সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়নি এবং মাসুদের সাথে বিকাশের তর্ক বিতর্ক হয়েছে কিন্তু মারধর করা হয়েছে কি না সেটি অজানা।
কৃষি ব্যাংকের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক শাখায় পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত বিকাশ রঞ্জন সরকারের বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামে। উপজেলার পাকুরাটি ইউনিয়নের নতুন বাজারে বিকাশ রঞ্জন সরকার সম্প্রতি তাঁর ৫ শতাংশ জায়গা বিক্রি করেছেন। ওই জায়গায় যে স্থাপনা/ঘর রয়েছে তা ভেঙে আনতে সোমবার বেলা ১১টার দিকে তিনি সেখানে যান। দুপুর একটার দিকে মোশারফ হোসেন মাসুদ সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে (মাসুদ) জিজ্ঞেস না করে জায়গা বিক্রি করেছে কেন এমনটি বিকাশের কাছে জানতে চান। এ নিয়ে মাসুদ ও বিকাশের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে মাসুদ ও তাঁর ছেলে সাগর মিয়া বিকাশকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালমন্দ করছে এমন অভিযোগ এনে ৯৯৯ ও স্থানীয় থানায় কল করে পুলিশের সহায়তা চান বিকাশ। পরে পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছালে বিকাশ সেখান থেকে চলে আসার সুযোগ পান।
মাসুদ ও তার পরিবারের লোকজনের কাছে জায়গা বিক্রি করলে টাকা পাওয়া যায়না দাবি করে বিকাশ রঞ্জন সরকার জানান, মাসুদকে জিজ্ঞেস না করে জায়গা বিক্রি করায় মাসুদ ও তাঁর ছেলে তাঁকে (বিকাশ) মারধর এবং গালমন্দ করেছে। প্রাণ বাঁচাতে একটি ঘরে আশ্রয় নিয়ে পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে মুক্ত হন। এ ব্যাপারে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান।
অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন মাসুদ বলেন, ‘এটাতো রাতের বেলায় না, দিনের বেলায়। আপনারা ঘটনাস্থলে এসে দেখে যান এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না। এসব মিথ্যা অভিযোগ।’
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান বলেন, ‘মোশারফ হোসেন মাসুদ ও বিকাশ রঞ্জন সরকারের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়েছে শুনে আমি সেখানে গিয়ে দেখি বিকাশ রঞ্জন সরকার সেখান থেকে চলে যাচ্ছেন।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘বিকাশ রঞ্জন সরকারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এমনটি পাওয়া যায়নি এবং তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। মারধর করা হয়েছে কি না এ নিয়ে তিনি (বিকাশ) কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি।’
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার পাইকুরাটি নতুনবাজারে। বিকাশ রঞ্জন সরকারকে মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে মোশারফ হোসেন ওরফে মাসুদ এবং তাঁর ছেলে সাগর হোসেনের বিরুদ্ধে। মোশারফ সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, ধরমপাশা ও জামালগঞ্জ) আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে রতনের বড় ভাই এবং ধরমপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক।