ইউএনওর নির্দেশে কাটা হলো তিনটি সরকারি গাছ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
এলজিইডির ড্রেন নির্মাণের অজুহাতে নিয়ম নীতির তুয়াক্কা না করে ধর্মপাশায় তিন লক্ষাধিক টাকা মূল্যের তিনটি সরকারি রেইনট্রি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন অফিসার্স কোয়ার্টারের পেছনে অবস্থিত ওই গাছগুলো গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ৪/৫ জন শ্রমিক গাছগুলো কেটেছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিনটি গাছই পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি গাছ কাটার বিধান না থাকলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি তারা উন্নয়নের স্বার্থে এমনটি করেছেন।
২০১৯-২০ অর্থ বছরে এলজিইডির অধীনে উপজেলা শহর (নন-মিউনিসিপল) মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ধর্মপাশায় এক কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ সপ্তাহদুয়েক ধরে চলমান রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে থেকে পরিষদ চত্বর হয়ে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত এ ড্রেন নির্মাণ কাজ করছে সরকার এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আর এ কাজ করতে গিয়ে উপজেলা অফিসার্স কোয়ার্টারের পেছনে থাকা তিনটি বড় রেইনট্রি গাছ কেটে ফেলেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সেলবরষ ইউনয়িনের খয়েরদিরচর গ্রামের আক্কাছ আলীর নেতৃত্বে ৪/৫ জন শ্রমিক গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। আক্কাছ আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত করেছেন।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফখরুল আলম খান বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো তথ্য নিতে হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। আপনি ডিসি সাহেবের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন।’
এদিকে নিয়ম মেনে গাছ কাটা হচ্ছে না জানিয়ে ধর্মপাশা উপজেলায় বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা ফরেস্টার আনিসুর রহমান বলেন, ‘গাছ না কাটলে ড্রেন করা যাচ্ছে না, ড্রেনের স্বার্থেই গাছ কাটা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘পরিষদ চত্বরের গাছ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়নের স্বার্থে কাটা যায়। পরবর্তীতে কাটা গাছগুলো বন বিভাগ দাম নির্ধারণ করে দিলে তা প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হবে।’
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘কাজের স্বার্থে আগেই গাছ কাটা হচ্ছে, পরে তা বন বিভাগ নিলাম দিবে। পরিপত্র আছে উন্নয়নের স্বার্থে গাছ কাটা যায়।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে এলাকার বাইরে অবস্থান করছি। এলাকায় গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’