ইত্তেফাকের সহসম্পাদক পদে যোগ দিয়েছেন তাওসিফ মোনাওয়ার

দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকের সহসম্পাদক পদে যোগ দিয়েছেন সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার। পত্রিকাটির প্রকাশক ও কার্যনির্বাহী পরিচালক তারিন হোসেন এবং মুহিবুল আহসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সহসম্পাদক পদে নিয়োগ দেয়া হয় তাকে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি পত্রিকাটির ফিচার বিভাগে প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তাওসিফ মোনাওয়ার সদ্যই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ থেকে ‘ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার’ সম্পন্ন করেছেন। ইতোমধ্যে পেশাদার পুরকৌশলীদের সঙ্গে যৌথভাবে কয়েকটি স্থাপনার নকশাও করেছেন এই উদীয়মান স্থপতি। স্কুলজীবন থেকেই শিশু-সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কাজে জড়িত ছিলেন-যে কারণে উচ্চশিক্ষার বিষয় হিসেবে স্থাপত্য বেছে নেন।
২০১৩ সালে তিনি সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ২০১৫ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে ভর্তি হন। বিভাগটির শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ডিজাইন ফোরাম’ এর নির্বাচিত সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষানবিশ স্থপতি হিসেবে প্রায় এক বছর কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ‘আরবান আর্কিটেক্টস সিডনি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে।

২০১৩ সাল থেকে অনলাইন নিউজপোর্টাল সুনামগঞ্জ মিরর ডটকম সম্পাদনা করছেন তাওসিফ। এর আগে সুনামগঞ্জের স্থানীয় পত্রপত্রিকাতেও লেখালেখি করেছেন। জাতীয় বিজ্ঞান মেলায় জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় রানারআপ, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণে বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন, ইন্টারনেট উৎসবে আই-জিনিয়াস হওয়া সহ বেশকিছু পুরষ্কার রয়েছে তার ঝুলিতে। পারদর্শী ছিলেন বিতর্কের বক্তা হিসেবেও। এছাড়া সম্প্রতি আমেরিকান ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস (এআইএ) সান ফ্রান্সিসকো’র একটি আন্তর্জাতিক ডিজাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দলগতভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
তাওসিফ মোনাওয়ারের বাবা সুনামগঞ্জের স্বনামধন্য চিকিৎসক, আইএইচটি’র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মোনাওয়ার আলী। মা সারাহ মোনাওয়ার গৃহিণী।
তাওসিফ মোনাওয়ার জানান, সুনামগঞ্জকে আধুনিক, সুসজ্জিত ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে দেখার স্বপ্ন নিয়েই তিনি স্থাপত্যে পড়াশোনা করেছেন। তবে সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ত থাকার কারণ হল-সাংবাদিকরা মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন, আর স্থপতিরা খোঁজেন সমাধান; এভাবে এই দুই পেশার মাঝে যোগসূত্র দেখেন তিনি। ভবিষ্যতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি সুনামগঞ্জের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে অংশীদার হতে চান তিনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি চালিয়ে যাবেন স্থাপত্যচর্চা।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি