- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

ইব্রাহীমপুরে নদীর ভাঙন প্রতিরোধে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে বালুর বস্তা ফেলা কাজের উদ্বোধন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানান, এবারও পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের নদী ভাঙন প্রতিরোধে ডাম্পং কাজ শুরু হয়েছে। কাজ চলমান থাকবে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। ৪০-৫০ হাজার বালুর বস্তা ডাম্পিং করা হবে নদীর তীরে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বস্তা ডাম্পিং করা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধ হবে, এমন পরিকল্পনা থেকে বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
২০০৭ সালের ৩ আগষ্ট রাত ১১টায় নদী ভাঙন শুরু হয় পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের বাড়ির সামনে। এতে প্রায় অর্ধেক বাড়ি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। অসংখ্য গাছপালাও বিলীন হয় নদী গর্ভে। একই বছর গাজী রহমানের বাড়ি সামনেও নদী ভাঙনের ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে একাধিক ঘর বাড়ি, যাতায়াত সড়ক ও গাছপালা নদী ভাঙনে বিলীন হয়। বিলীন হয়ে যায় নদীর তীরে থাকা এলাকার বাসিন্দা জগলুল মিয়ার কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও গ্রামের ব্যবসায়ীদের একাধিক সুঁটকির মাচান তৈরির সমতল জায়গা। ওই বছর মুসলিম উদ্দিনের বাড়ি থেকে আলী আজগর মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত এই নদী ভাঙন পরিলক্ষিত হয়।
২০১১ সালে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি আলহাজ্ব মতিউর রহমানের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই ভাঙন এলাকায় ব্লক স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু ব্লক স্থাপনের কাজ অপরিকল্পিত ও নি¤œমানের হওয়ায় ২০১২ সালে অর্ধেক পরিমাণে ব্লক নদীগর্ভে খসে পড়ে। এই নদী ভাঙন প্রতিরোধে দুই বারের সংস্কার কাজে কারচুপির অভিযোগের কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদী ভাঙন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন জানান, নদী ভাঙনের কবলে পড়ে আমার বাড়ির বেশিরভাগ অংশ, অসংখ্য গাছপালা বিলীন হয়েছে। আমার গোয়ালঘরও নদীতে বিলীন হয়েছে। বাড়ির সামনে ভাঙনের গভীরতা এখনও রয়েছে। এই গভীরতা ভরে তোলা হয়নি আগের দুইবারের ভাঙন প্রতিরোধ কাজে। এই ভাঙনে বেশি পরিমাণে ব্লক ও বস্তা ফেলার জন্য একাধিক বার বলেছি ঠিকাদারদের। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তাদের মত কাজ করে চলে যান। এখনও আমার বাড়ির সামনে অনেক গভীর ভাঙন রয়েছে। ভালমানের কাজ করলে এই ভাঙন প্রতিরোধ সম্ভব।
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গাজী রহমান জানান, নদী ভাঙনের কবলে পড়ে আমার বাড়ি বিলীন হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা বিলীন হয়েছে। গ্রামের যাতায়াত সড়কও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যাতায়াত সড়ক বিলীন হওয়ার পর গত বছর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে অস্থায়ীভাবে মানুষ যাতায়াতের সুবিধা করে দেয়া হয়েছে। এই সাঁকোও এখন ভেঙে পড়েছে। এবারের কাজে সাঁকোর নিচে বস্তা ফেলে দেয়া হলে মানুষের স্থায়ী যাতায়াতের সুবিধা তৈরি হবে।
জগলুল মিয়া জানান, নদী ভাঙনের কবলে পড়ে আমার কিন্ডারগার্টেন স্কুল বিলীন হয়েছে নদীতে। নদীরপাড়ের পুরো সড়ক বিলীন হয়েছে। গত বছর এই ভাঙন প্রতিরোধে বস্তা ফেলার সময় এলাকার কয়েক জনকে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অনেকবার বলেছি। তারা যেন ভাল করে বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনেননি। তারা যেমন মনে করেন তেমন কাজ করে চলে যান। আমাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা সমন্বয় করেননি। এবার কাজ ভাল হলে নদী ভাঙন প্রতিরোধ হবে।

  • [১]