উজাড় হচ্ছে হাওরের বন

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলাজুড়ে অবস্থিত মাদার ফিশারিজ টাঙ্গুয়ার হাওর পথ থেকে এখন প্রতিনিয়ত জ্বালানি হিসেবে অবাধে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নলখাগড়া, চাইল্যাবন, হিজল-করচ গাছের ডালপালা। উজাড় করা হচ্ছে ঘন সবুজ বন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বিশাল হাওরের জলরাশির চারদিকে হিজল-করচ নলখাগড়া, চাইল্যাবনসহ বিভিন্ন জাতের গাছগাছালি সমৃদ্ধ অতিথি পাখির অভয়াশ্রম। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেঁষা সবুজের সমারোহে বেষ্টিত টাঙ্গুয়ার হাওরের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই হারানোর পাশাপাশি ক্রমশ হুমকির মখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। ফলে বিপন্ন হচ্ছে হাওর, বিপন্ন হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ।

টাঙ্গুয়ার হাওর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ‘৯০ দশকের শুরুতে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার বিষয়টি মিডিয়ায় উঠে এলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশের আটটি স্থানকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি তোলে, তখন বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের সঙ্গে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, যশোরের মাঠচান্দ, কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়া দ্বীপ, টেকনাফের উপকূলীয় অঞ্চল, সিলেটের কুলাউড়ার মাধবকুণ্ড জলপ্র্রপাত ও হাকালুকি হাওর পরিবেশের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়।

সারা বিশ্বে রামসার অন্তর্ভুক্ত এলাকা হচ্ছে এক হাজার ৩১টি। এর মধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওর একটি। রামসার ঘোষণার পর টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রচলিত ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ এবং কর্তৃত্ব পরিবর্তিত হয়। টাঙ্গুয়ার হাওর একটি বৃহৎ জলমহাল হিসেবে কর্তৃত্ব ছিল শুধু ভূমি মন্ত্রণালয়ের হাতে। এখন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের হাতে। রামসার ঘোষণার পর টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন শিল্পের দিক নিয়ে নতুন সম্ভাবনা জেগে ওঠে। সম্প্রতি সরেজমিন টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরপাড়ের লোকজন জ্বালানির চাহিদা মেটাতে নলখাগড়া, চাইল্যাবন, হিজল-করচ গাছের ডালপালা কেটে ছোট নৌকা বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মনির হোসেন বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য কিছু লোক বনতুলসী, চাইল্যাবন ও নলখাগড়া কেটে নিয়ে যায়।

টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের ছিলানি তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা নিজেদের পকেট ভারী করতে মাছ ধরা ও গাছ কাটার সুযোগ করে দিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিপন্ন হতে পারে হাওরের পরিবেশ ও জনবসতি। নলখাগড়া, চাইল্যাবন, হিজল-করচ গাছের ডালপালা কেটে গোলাবাড়ি ও মন্দিয়াতা ক্যাম্পের সামনে দিয়ে নিয়ে যায়। অথচ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না আনসার সদস্যরা।

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের সানজু মিয়া বলেন, গত দুই দশক ধরে টাঙ্গুয়ার হাওরে গাছকাটা চলছে। এখন হাওরে গাছপালা আগের মতো নেই।

ইউএনও পদ্মাসন সিংহ বলেন, হাওরপাড়ের লোকজনের সচেতনতামূলক কর্মশালার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে তারা নিজ থেকেই টাঙ্গুয়া হাওর রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে। এ ছাড়া গত শুক্রবার হাওরে কর্তব্যরত কমিউনিটি গার্ড চাইল্যাবন, হিজল-করচ গাছের ডালপালাসহ চারটি নৌকা আটক করেছে। এ সময় বনখেকোরা দৌড়ে পালিয়েছে।