উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়ায় শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া শুরু করেছিলেন। হঠাৎ আবারও বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। হতাশায় আছেন অভিভাবকেরা। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকগণ।
শহরতলীর সৈয়দপুর গ্রামের শিক্ষার্থী অভিভাবক শাহ আলম বললেন, দীর্ঘ দুই বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় হাইস্কুলে পড়–য়া আমার শিশুকে নানা কাজে যুক্ত করেছিলাম। স্কুল খুলে যাওয়ার পর কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করেছে সে। ঋণ করে স্কুলে ভর্তি করানো হয় তাকে। এখন আবার স্কুল বন্ধ। কর্মও গেল, স্কুলও বন্ধ হলো।
অপর অভিভাবক আব্দুল হামিদ বলেন, শিক্ষার্থী বেকার থাকলে মানসিকতা নষ্ট হয়। এসব চিন্তা করে বাড়িতে বই পড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে দিয়েছিলাম। স্কুল খোলার পর ভর্তি করেছি। এখন আবার স্কুল বন্ধ ঘোষণা। সন্তানদের স্কুলে পড়া না হলেও মাসে মাসে বেতন দিতে হয় আমাদের।
শিক্ষার্থী অভিভাবক আনজুমা বেগম বলেন, গত পরশু শিশুকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। টাকা লেগেছে বেশ। ড্রেস বানিয়ে দিয়েছি, খাতা-কলম কিনেছি, ব্যাগ কিনে দিয়েছি। এখন আবারও স্কুল বন্ধ। সরকার করোনার আশঙ্কা দেখিয়ে বিদ্যালয় বার বার বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ঠিকই খোলা আছে। এভাবে চললে আমরা শিশুদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলতে পারবো না।
সুনামগঞ্জ জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন-উর-রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীরা অনেক উৎসাহ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। অল্পদিনেই স্কুলমুখি হয়েছিল শিক্ষার্থীরা। হঠাৎ দুই সপ্তাহ বন্ধ ঘোষণায় সকাল থেকে স্কুলে শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা এসে বন্ধের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তারা মারাত্মকভাবে মর্মাহত হয়েছেন।
শহরতলির সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম রাসেল বলেন, হঠাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অভিভাবকেরা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। শিক্ষার্থীরাও মর্মাহত। কম সময়ের বন্ধ ঘোষণা হলে অবশ্যই ভাল হতো।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইনচান মিঞা বললেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান চালু রাখা গেলে ভালো হত।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বললেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুল বন্ধ দেওয়া হয় নি। শিক্ষকরা স্কুলে আসবেন। অনলাইনে ক্লাস করবেন। হোম ভিজিটও করতে হবে।
প্রসঙ্গত. করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধের পর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজ খুলে দিয়েছিলো সরকার। স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই দীর্ঘ সময় অনলাইন ও সংসদ টিভিতে ক্লাস চললেও ডিভাইস ও নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে সেই সেবা পৌঁছায় নি। বিভিন্ন জরিপে সেই তথ্য উঠে এসেছে।