উপজেলা আ. লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় খুনের মামলার আসামীর নাম

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ৩ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এই তিন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে ও জেলা কমিটির কাছে পাঠাবেন সংগঠনের নেতারা। বুধবার দুপুরে সংগঠনের উপজেলা কমিটির বৈঠকে প্রাথমিকভাবে এই তিন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেন সংগঠনের নেতারা। মনোনয়ন প্রত্যাশী এই তিন নেতার মধ্যে একজন খুনের মামলার পলাতক আসামী। তার নামও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ।
দিরাই আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, বুধবার দুপুর ১২ টায় সংগঠনের উপজেলা শাখার সভাপতি আছাব উদ্দিন সর্দারের সভাপতিত্বে ও যুগ্মসম্পাদক লুতফুর রহমান এওর মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের উপজেলা কমিটির ৫৯ জন সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত ছিলেন। সভায় দিরাই পৌরসভা নির্বাচনে তিন জন দলীয় নেতার নামের তালিকা করে, এরমধ্যে যে কোন একজনকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের মনোনীত এই তিন নেতা হলেন- যুবলীগ নেতা বিশ^জিত রায়, দিরাই পৌরসভার বর্তমান মেয়র মোশারফ মিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ উল্লাহ্।
মোশারফ মিয়া দিরাইয়ের একটি জলমহালে ৩ খুনের ঘটনার মামলার পলাতক আসামী। ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রয়ারি হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের জন্য অন্তবর্তীকালীন জামিন নেন তিনি। এই ৬ সপ্তাহের মধ্যে নি¤œ আদালতে হাজির হবার কথা তাঁর। কিন্তু তিনি হাজির হন নি। এই অবস্থায় বাদী পক্ষ সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিউ পিটিশন (নম্বর ২৪/ ২০১৯) দায়ের করে। আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবার জন্য র‌্যাবকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এরমধ্যে মোশারফ মিয়াসহ খুনের মামলার ৫ আসামী নি¤œ আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১২ অক্টোবর জুডিসিয়াল বিচারক আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন।
দিরাই থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়া, তার দুই ছেলে, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার ও দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় খুনের মামলার ওয়ারেন্টের তালিকাভুক্ত আসামী। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে তথ্য চাইলে আমরা জানিয়ে দেব।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারী পরোয়ানার আসামী কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না। তিনি যদি মনোনয়ন জমা দেবার আগে হাজিরা দিয়ে জামিন পান, তাহলে ভিন্ন কথা। তখন বলা যাবে, মামলা বিচারাধীন।
এই বিষয়ে জানতে মোশারফ মিয়ার মুঠোফোনে ফোন দিলে তার মেয়ে ফোন রিসিভ করে জানিয়েছেন, তিনি বাড়ি নেই।
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ও পলাতক আসামী। তাঁকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করে জানান, সভায় তিনি ছিলেন না, তবে সভায় উপজেলা কমিটির ৫৯ জনের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে নেতৃবৃন্দ তাঁকে সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবহিত করেছেন। যেহেতু মোশারফ মিয়া আগ্রহী এবং নির্বাচনী আইনও তারা ভালভাবে জানেন না, এজন্য মোশারফ মিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে, সিদ্ধান্ত নেবেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা।