উপজেলা পর্যায়ে করোনার বোস্টার ডোজ কখন শুরু হচ্ছে?

করোনা টিকার বোস্টার ডোজ পাওয়া নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বেশ কিছু বিভ্রান্তি কাজ করছে। বিশেষ করে জেলা সদরের বাইরে যারা বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল থেকে টিকা গ্রহণ করেছেন তারা বোস্টার ডোজ শুরু হওয়ার পর বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও তৃতীয় বা বোস্টার ডোজ নেয়ার এসএমএস না পাওয়ায় হতাশায় রয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জেলা সদরের পাশাপাশি কেন সমান তালে উপজেলা কেন্দ্রগুলোতে বোস্টার ডোজ চালু করতে পারলেন না তার কোন ব্যাখ্যাও পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত জেলার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট দক্ষতা ও আন্তরিকতা নিয়ে টিকা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এই আস্থার ফলে মানুষের মনের প্রত্যাশাও বেশি। দুই ডোজ টিকা গ্রহীতা অনেকেই বলেছেন, তারা গণটিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছিলেন। এদের অনেকেই বয়স্ক ও জরুরি সার্ভিসে কর্মরত। সরকার তৃতীয় ডোজ চালুর ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই এরা আশায় ছিলেন যেহেতু তারা প্রথম দিকে টিকা নিয়েছেন সেহেতু বোস্টার ডোজের ক্ষেত্রেও তারা প্রথম ধাপেই সুযোগ পাবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে যারা টিকা নিয়েছিলেন তাদের তৃতীয় ডোজ নেয়ার এসএমএস আসছে কিন্তু উপজেলা কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণকারীদের কোন এসএমএস আসছে না। বোস্টার ডোজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের একটি ঘাটতি। দ্রুত এই বিষয়ে মনোযাগী হওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি।
করোনার তৃতীয় ঢেউ সম্প্রতি দেশে আঘাত হানা শুরু করেছে। ডিসেম্বরে যেখানে করোনা আক্রান্তের হার শতকরা এক শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছিল সেখানে জানুয়ারিতে এখন সেটি শতকরা আট শতাংশে উঠে গেছে। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের বৈশি^ক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করলে দেখতে পাওয়া যাবে, ইউরোপ আমেরিকার পর বাংলাদেশে করোনা সর্বোচ্চ সংহারী রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়। জানুয়ারি থেকে করোনায় আক্রান্তের হার বাড়তে থাকা আগের অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং আশঙ্কা করা যায় সামনের দিনগুলোতে আক্রান্তের হার যথেষ্ট বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া করোনার নতুন আরেকটি ধরণ যা ওমিক্রন নামে পরিচিত, সেটির সংক্রমণ সক্ষমতা আগের যেকোন ভ্যারিয়েন্ট থেকে বেশি হওয়ার কারণে জনমনের উদ্বেগ আরও বেশি। সরকারের চিন্তায়ও বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার করোনার নতুন স্বাস্থ্যবিধি জারি করেছেন যা আগামীকাল থেকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। টিকা গ্রহণের ব্যাপারে সরকার এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ১২ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। সরকার সকলকে আহ্বান জানচ্ছেন টিকা গ্রহণের জন্য। সরকার নিশ্চয়তা দিয়ে বলছেন দেশে এখন টিকার কোন ঘাটতি নেই। সুতরাং করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে আমরা এখন পর্যন্ত প্রতিরোধ-কবচ হিসাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সাথে টিকা গ্রহণের বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। এরূপ অবস্থায় তৃতীয় বা বোস্টার ডোজ প্রদানের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সঠিক ব্যবস্থাপনা সাজাতে হবে।
আমরা আশা করি জেলার স্বাস্থ্যবিভাগ পরিস্কার করে জানাবেন, উপজেলা কেন্দ্রগুলোতে বোস্টার ডোজ কবে থেকে শুরু হবে। উপজেলা পর্যায়ে টিকা সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে, হয় দ্রুত সে ব্যবস্থা করতে হবে, নতুবা জেলায় এনে বয়স্ক ও জরুরি সার্ভিসের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের বোস্টার ডোজ টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া সর্বত্র বোস্টার ডোজ দেয়ার ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের সময়ভিত্তিক অগ্রাধিকার তালিকা অনুসরণ করাও প্রয়োজন। জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে এই ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।