উপশহর প্রকল্প-মেয়াদ শেষেও কাজ বাকি অনেক

মো. আমিনুল ইসলাম
সুনামগঞ্জবাসিদের জন্য সরকারের গৃহিত উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি বড় প্রকল্প উপশহর নির্মাণ। এই প্রকল্পের শুরু থেকেই অনেকটা ঢিমেতালে কাজ চলায় নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনো মাটি ভরাটের কাজই শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন করতে গেলে নির্ধারিত বাজেটের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৬ হাজার টাকার বাজেট নির্ধারণ করে জেলা শহরের আব্দুজ জহুর সেতুর পশ্চিম-উত্তর পার্শ্বে শহরতলী এলাকায় ১৬.৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাইট এন্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মধ্য এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে শুরু হয় প্লট বরাদ্দ দেয়ার কাজ। প্রকল্পের নির্ধারিত জমিতে ১৫৪টি আবাসিক প্লটের মধ্যে এখন অব্দি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৯৫টি। অথচ এই প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ করার কথা ছিলো ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে। শতভাগ কাজের বাস্তবায়ন শেষে বাণিজ্যিক প্লটও বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মাটি ভরাটের কাজ শেষ করে রাস্তা, ড্রেনেজ লাইন ও কালভার্ট নির্মাণ করতেই আরও ১ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সৃষ্ট নানা জটিলতাকে দায়ি করছেন তারা।
এই প্রকল্পে বরাদ্দকৃত তিন ধরণের প্লটের মধ্যে ৫ কাঠা হতে ৬ দশমিক ৫০ কাঠা পর্যন্ত ৩০টি প্লট, ৩ দশমিক ৬০ কাঠা হতে ৪ দশমিক ৯০ কাঠা পর্যন্ত ১১টি প্লট এবং ২ দশমিক ৪০ কাঠা হতে ৩ দশমিক ৫০ কাঠা পর্যন্ত ১১৩টি প্লট রয়েছে। ৫ কাঠা হতে ৬ দশমিক ৫০ কাঠা প্লটের জন্য জামানত ১ লাখ টাকা, ৩ দশমিক ৬০ কাঠা হতে ৪ দশমিক ৯০ কাঠা প্লটের জন্য জামানত ৭৫ হাজার টাকা, ২ দশমিক ৪০ কাঠা হতে ৩ দশমিক ৫০ কাঠা প্লটের জন্য জামানত ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। জমির কাঠা প্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৪ লাখ টাকা। তবে বাণিজ্যিক প্লটের জন্য প্রতি কাঠার মূল্য দ্বিগুণ বলেও জানিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্লট বরাদ্দের আবেদনপত্র জমা নেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিলো।
প্রস্তাবনা মোতাবেক এই প্রকল্পে পরিকল্পিত রাস্তা, ড্রেন, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, মার্কেট, স্কুল, মসজিদ, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ নানা সুযোগ সুবিধা থাকবে । স্বল্প ও মধ্যম আয়ের ব্যক্তি যাদের বার্ষিক সর্বোচ্চ আয় ৫ লাখ টাকা এবং প্রবাসী ব্যক্তিদের জন্য যাদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা আয় আছে, কেবল তারাই এইসব প্লট পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের জন্য সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাজীপাড়া এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে এ বিষয়ে জানার সুবিধা রয়েছে।
উপ শহর প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ পেয়েছিলো খোকন ট্রেডিং এজেন্সি। কাজের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়ায় এই কাজের বাস্তবায়ন করতে খোকন ট্রেডিং এজেন্সি সুনামগঞ্জের একজন ড্রেজার ব্যবসায়িকে নিয়োগ করে। কিন্তু ২০১৭ সালে নদীতে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাটি ভরাটের কাজ কিছুদিন চালানোর পর আইনি জটিলতায় প্রায় ১ বছর হয় মাটি ভরাট বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পুনরায় খোকন ট্রেডিং এজেন্সি টুকেরঘাট এলাকা থেকে ট্রাকযোগে মাটি এনে প্রকল্পে সরবরাহ করছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন‘ আমি এখন কাজের দেখাশোনা করছি, মাটি ভরাটের সাব ঠিকাদার নিয়োগ করার পর ওই ঠিকাদার ড্রেজার দিয়ে কিছুদিন সরবরাহ করেছিলেন, কিন্তু নদী থেকে ড্রেজিং অবৈধ থাকায় তিনি তেমন মাটি না দিতে পারায়, এখন আমরাই ট্রাকযোগে মাটি এনে সরবরাহ করছি’।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সিলেট ডিভিশনের উপ সহকারি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম সুনামগঞ্জের উপ শহর প্রকল্পের কাজের তদারকি করছেন। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর কে তিনি জানান – ‘কাজ শতভাগ শেষ করতে গেলে এই পুরো বছরটাই লেগে যেতে পারে, কাজের মেয়াদ শেষ, এক্সটেনশনের কাজ চলছে, সময় বাড়লে তো খরচ বাড়তেই পারে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সিলেট ডিভিশনের প্রধান সহকারী মো. মুজিবুর রহমান বলেন,কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, নানা জটিলতায় আমরা এটিকে এখনো দৃশ্যমান করতে পারিনি, সামনের বছর আশা করছি শতভাগ কাজ শেষ করতে পারবো। ৯৫টি আবাসিক প্লট বরাদ্দ দিয়েছি। আমাদের মোট আবাসিক প্লট ১৫৪টি, কাজ শেষে আমরা বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ দেবো, আবাসিক প্লটে সার্কুলার দেয়া আছে, সর্বনিম্ন প্রতি প্লট আড়াই কাঠা করে, প্রতি কাঠা ৪ লাখ টাকা করে আমরা বরাদ্দ দিচ্ছি।