একঘণ্টা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতীকী দায়িত্ব পালন করল শিক্ষার্থী সাবরিনা

স্টাফ রিপোর্টার
সাবরিনা সুলতানা দশম শ্রেণির ছাত্রী। কিন্তু শনিবার সে এক ঘণ্টা জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছে। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত, পর্যবেক্ষণ এবং কর্মীদের নানা নির্দেশনা দেয়।
সুনামগঞ্জ জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই প্রতীকী দায়িত্ব পালন অনুষ্ঠান হয়। বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে সুনামগঞ্জে ন্যাশনাল চিলড্রেন্স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে এই ‘গার্লস টেকওভার’ ক্যাম্পেইন কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হয়। তাদের ক্যাম্পেইনের স্লোগান ছিল ‘গড়বে শিশু সোনার দেশ, ছড়িয়ে দিয়ে আলোর রেশ।’ সাবরিনা সুলতানা সংগঠনের জেলা চাইল্ড পার্লামেন্ট মেম্বার।
সকালে সংগঠনের সদস্যরা জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মনের কার্যালয়ে গেলে তিনি সাবরিনা সুলতানাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এরপর তাকে এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। দায়িত্ব পেয়ে সাবরিনা সুলতানা সুনামগঞ্জ জেলা নিয়ে কী কী কাজ করবেন সে সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে তার ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি রাস্তাঘাটে ইভটিজিং বন্ধ, শিশুদের মাদক থেকে বিরত রাখা, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল উদ্যোগ নিবেন বলে উল্লেখ করেন। এসব কাজে তিনি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নেবেন বলে জানান।
সাবরিনা বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের। একজন শিশু হয়েও এক ঘণ্টার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীকী প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। সাবরিনা সকলের উদ্দেশ্য বলে, এই চেয়ারে বসা শুধু আমার একার জন্য নয়, সব কন্যা শিশুর জন্য সম্মানের। কন্যা শিশুরা বোঝা নয়, আমরাও আগামী দিনের দেশের বিভিন্ন দপ্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখি। এর জন্য সযোগ সৃষ্টি করতে হবে। নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে। সাবিরনা তাকে এই সুযোগ হরে দেওয়ার জন্য জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছরের মতো এ বছরও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের একটি বিষয় ঘোষণা করে। সেটি হলো : ‘ক্ষমতায় সমানে সমান’। যেহেতু আমাদের দেশে মেয়ে শিশু, তরুণী এবং নারীদের খুব কম সময়ই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়। লিঙ্গ অসমতা, বৈষম্য এবং নিপীড়নের কারণে তারা সমাজে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে বাধাগ্রস্ত হয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় প্রায়ই মেয়েদের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়, এমনকি অনেক সময় তাদের মতামত দৃষ্টিভঙ্গি ও বিবেচনা গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়; প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ক্যাম্পেইনে ‘গার্লস টেকওভার’ মেয়েদের ক্ষমতা ও সক্ষমতা নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা।
এক ঘণ্টার দায়িত্ব পালন শেষে সাবরিনা সুলতানা আবার বাদল চন্দ্র বর্মণের কাছে তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করেন এনসিটিএফের জেলা স্বেচ্ছাসেবক শফিকুল ইসলাম ও প্রিয়াংকা কর।