এক মাসেও শুরু হয়নি এক শ’র বেশি প্রকল্পের কাজ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ শুরু হওয়ার কথা গেল বছরের ১৫ ডিসেম্বর। নিয়ম রক্ষার্থে তড়িঘড়ি করে একটি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত দিনে উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু তখনও চূড়ান্ত হয়নি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) তালিকা। যদিও একই বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণ ও ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সবক’টি পিআইসি তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে কাজের নির্ধারিত সময়ের এক মাস কেটে গেছে। তবুও প্রকাশ হয়নি চূড়ান্ত পিআইসি তালিকা। আর শুরু হয়নি একশ’রও বেশি প্রকল্পের কাজ। ফলে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
২০২১-২২ অর্থ বছরে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল, কাইল্যানী, সোনামড়ল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, গোড়াডুবা, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৫৭টি প্রকল্প নির্ধারণ করেছে। ১৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে প্রয়োজন হবে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৮০০ ঘনমিটার মাটির। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ৪১ হাজার টাকা। পাউবোর তথ্য মতে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৫০টির অধিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। উপেক্ষিত হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ধানকুনিয়ার হাওরের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেও অনেক সময় আগাম বন্যার কারণে যেখানে ঝুঁকিতে পড়তে হয় সেখানে এখনও কাজ শুরু না হওয়া হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে তা কল্পনা করা যায় না। দ্রুত সবকটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা উচিত।’
জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, ‘পিআইসি গঠন প্রক্রিয়ার সাথে এবার আমাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। তাই কীভাবে পিআইসি গঠন করা হয়েছে সে সম্পর্কেও অবগত নই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন অভিযোগ শুনতে হচ্ছে- নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি গঠন হচ্ছে না। তাই নীতিমালা অনুসরণ করে দ্রুত পিআইসি গঠন শেষে পুরোদমে কাজ শুরু করা উচিত।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলার সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘এখনো পিআইসি তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যা তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এমনটি হচ্ছে আমাদের বোধগম্য নয়। বাঁধের কাজ নিয়ে এবারের যে গাফিলতি লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে হাওরে ফসল হানি ঘটলে এর দায় কে নেবে?’
উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য কমিটি গঠন করতে দেরি হয়েছে। ৫০ থেকে ৬০টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যার তালিকা দ্রুত প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হবে।’