এক সপ্তাহে শনাক্ত বেড়েছে ৬৭%, মৃত্যু ৪৯%

সু.খবর ডেস্ক
করোনায় আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষা করাতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। মুগদা হাসপাতাল থেকে তোলা ছবি -ফোকাস বাংলা
করোনায় আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষা করাতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। মুগদা হাসপাতাল থেকে তোলা ছবি -ফোকাস বাংলা
দেশে করোনাভাইরাসের রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনা করে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনার দশম সপ্তাহ চলছে। নবম সপ্তাহ সাপেক্ষে দশম সপ্তাহের রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, নমুনা পরীক্ষা, শনাক্ত, সুস্থতা ও মৃত্যু-সবগুলো সূচকই ঊর্ধ্বমুখী। আগের সপ্তাহের তুলনায় নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর বিপরীতে শনাক্তের হার বেড়েছে ৬৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। সুস্থতার হার বেড়েছে ৪২ দশমিক ৪১ শতাংশ। মৃত্যুও বেড়েছে ৪৯ দশমিক ০২ শতাংশ।
গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজন মারা যান। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। দুই মাস সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর নভেম্বরের শুরুর দিকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে।
ডিসেম্বর থেকে করোনার সংক্রমণ আবার কমতে থাকে। ১৮ জানুয়ারির পর থেকে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে ছিল। এরপর শনাক্তের হার প্রতিদিনই ৫ শতাংশের নিচে ছিল। মঙ্গলবার তা বেড়ে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছায়। বুধবার শনাক্তের হার আরও বেড়ে ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবার তা কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমে আসে। শুক্রবার তা আবারও বেড়ে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশে পৌঁছায়।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ২৩৬ জনে পৌঁছাল। একইসঙ্গে গত চব্বিশ ঘন্টায় করোনায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট ৮ হাজার ৫২৭ জন মারা গেলেন।
এর বিপরীতে গত চব্বিশ ঘণ্টায় এক হাজার ১৩৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত মোট ৫ লাখ ১০ হাজার ৩১০ জন সুস্থ হলেন।
গত চব্বিশ ঘন্টায় শনাক্তের হার কিছুটা কমে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশে রয়েছে। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি এক দিনে এক হাজার ৭১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর আক্রান্ত কমতে থাকে। মাঝখানে আক্রান্তের সংখ্যায় হ্রাস-বৃদ্ধি হলেও তা হাজারের ওপরে যায়নি। দুই মাস পর গত বুধবার আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। এরপর টানা চার দিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের ওপরে থাকছে।
স্বাস্থ্য অধিপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,দেশের ২১৯টি পরীক্ষাগারে গত চব্বিশ ঘন্টায় ১৬ হাজার ৭৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের দিনের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ২০৬টি।
এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৫টি। গত চব্বিশ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ।মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৯ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
মৃতদের তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৃত ১২ জনের মধ্যে ৯ জন পুরল্ফম্নষ এবং ৩ জন নারী। মৃতদের সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের সবার মৃত্যু হয়। বয়স বিশেস্নষনের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, মৃতদের মধ্যে ৪১থেকে ৫০ বছর বয়সী ১ জন এবং ৬০ বছরের ওপরের বয়সী ১১ জন।
আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত চব্বিশ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৮৩ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২৭ জন। মোট যুক্ত হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৪১ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯৩ জন। মোট আইসোলেশনে আছেন ৯ হাজার ৬৪৮ জন। এছাড়া গত চব্বিশ ঘন্টায় নতুন করে কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ২৫৫ জন। ছাড় পেয়েছেন ৩০৪ জন। মোট কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৬ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩২ হাজার ৩১৯ জন।
সূত্র : সমকাল