এবার পালা শুরু অঙ্গীকার পূরণের

শনিবার জেলার তিন পৌরসভায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। পৌরসভাগুলো হলোÑ সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও ছাতক। নির্বাচনে মেয়র পদে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নাদের বখ্ত, জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তার হোসেন (বিএনপি থেকে বিদ্রোহী) ও ছাতকে আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল কালাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিন পৌরসভার ভোট গ্রহণ নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না। ভোটাররা স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করেছেন। কোথাও শান্তি ভঙ্গের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জনঅংশগ্রহণমূলক এই অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন।
গণতন্ত্রের অপার সৌন্দর্য হলো গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা। জেলার তিন পৌর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই সৌন্দর্য সকলের সামনে উদ্ভাসিত হয়েছে। এমন সুন্দর নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীরা যথাযথ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের সকলের প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা।
জনগণ তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করার নাগরিক কর্তব্য পালনে তারা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। এখন পালা শুরু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের। যে প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার ও ঘোষণা দিয়ে নির্বাচকমন্ডলীর কাছে ভোট চেয়েছেন সেইসব অঙ্গীকার পূরণ করার সময় এখন তাঁদের। অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, অনেকে নির্বাচিত হওয়ার পর আগের প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে যান। নির্বাচিতরা গড্ডালিকাপ্রবাহে গা ভাসিয়ে দেন। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণকে সকলের সামনে উৎকৃষ্ট উদাহরণ তৈরি করতে হবে। তবেই আমরা বলতে পারব পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং এর ফলাফল জনস্বার্থের অনুকূলে প্রবহমান আছে। শুধু ভালভাবে ভোট দেয়াই গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিতদের জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের মধ্য দিয়ে পুরো পাঁচ বছর ব্যাপী গণতন্ত্রের এই বৈশিষ্ট্যকে সমুজ্জ্বল করে রাখাই হতে পারে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা পূরণ করি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ আগামী দিনগুলোতে এই কথা মাথায় রেখে নিজেদের স্বকর্মে নিয়োজিত রাখবেন।
সদ্যসমাপ্ত পৌর নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভোটাররা স্বতস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে ভোট প্রয়োগ করেছেন। ভোটার উপস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। এর অর্থ হলোÑ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার আর কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সরকার; সর্বত্রই এমন আকাক্সক্ষা বিদ্যমান। এই আকাক্সক্ষা ধারণ ও বাস্তবায়ন করা একটি পবিত্র জাতীয় দায়িত্বও বটে। জনপ্রতিনিধিত্বের সকল স্তরে এমন স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ কায়েম করার যে আকুতি সেই দিকে ধাবিত হতে পারলেই কেবল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। এই জায়গায় তৃতীয় কোনো শক্তির যেকোনো অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ যেমন অপ্রত্যাশিত তেমনি এই ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও সমান জরুরি।
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও ছাতক পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলরদের কাছে আমাদের আবেদন, আপনারা বিজয়ের আনন্দ উচ্ছ্বাস শেষ হওয়ার পর এবং অবশ্যই দায়িত্ব গ্রহণের পর, নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে করণীয় কর্মকান্ডের অগ্রাধিকার তৈরি করে সে অনুসারে কাজের পরিকল্পনা সাজান। আপনাদের কাজই নির্ধারণ করবে, সামনের দিনে আপনারা নন্দিত না নিন্দিত হবেন। আপনারা এখন নিজ নিজ এলাকার নন্দিত ব্যক্তিত্ব। আপনাদের এই উজ্জ্বল ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হোক এই আমাদের কামনা। আবারও নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক অভিনন্দন।