এবার প্রতারণা প্রতিষ্ঠানের নাম- অরোরা ডেফি ক্লাব

এবার অরোরা ডেফি ক্লাব নামের আরেকটি প্রতারণা প্রতিষ্ঠানের নাম জানা গেলো। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে গতকাল প্রকাশিত সংবাদ থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলায় এই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব জানা গেছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তির পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রায় দুই শ’ লোক এই প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দোয়ারাবাজারের বাইরে এই প্রতিষ্ঠানের শিকার আরও কত ব্যক্তি কে জানে। বলিহারি এই বিনিয়োগকারীদেরও। এই দেশে কত কত প্রতিষ্ঠান এমন প্রতারণা করে অজ¯্র মানুষের সর্বনাশ করেছে, এরকম তথ্য আমাদের কারও অজানা নয়। ডেসটিনি, ই-ভ্যালি এসব প্রতারক প্রতিষ্ঠানের নাম তো সারা দেশের মানুষের মুখে মুখে। তারপরও সমচরিত্রের প্রতারণা প্রতিষ্ঠানে মানুষ বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ হয় কেন? এর সহজ উত্তর অতিলোভ। অতিলোভে মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। আর মানুষের এই সহজাত প্রবণতাকে কাজে লাগায় প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এরা অল্পসময়ে কয়েকগুণ টাকা মুনাফা দেয়ার অলীক প্রতিশ্রুতি দেখায়। অল্পদিনে বড়লোক হওয়ার সুখস্বপ্নে বিভোর বোকা লোকগুলো পতঙ্গের মতো ঝাঁপ দেয় এমন প্রতিষ্ঠান নামের আগুনে। পরে সর্বস্ব হারিয়ে মাথা চাপড়ানো ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। প্রতারকরাও জানে তাদের প্রতারণার আয়োজন একটা সময়ে প্রকাশ হয়ে পড়বে। তাই তারা স্বল্প সময়ে যত বেশি সম্ভব মানুষকে তাদের জালে আটক করে চম্পট দেয়। এদের টিকিটি পরে আর খোঁজে পাওয়া যায় না।
দোয়ারাবাজারে অরোরা ডেফি ক্লাব নামের প্রতারক প্রতিষ্ঠানটি মানুষের ধর্মীয় অনুভিূতিকে চতুরতার সাথে ব্যবহার করেছে বলে সংবাদে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। অরোরার সাথে যুক্ত প্রতারক মাস্টার আল আমিন। তার পিতা মাওলানা আব্দুল মান্নান জিহাদী। তিনি মসজিদে এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষজনকে উসকিয়েছেন। এই ক্লাবে বিনিয়োগ করাকে তিনি ‘জায়েজ’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি দোয়ারাবাজার থেকে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যে ৭ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে তাদের মধ্যে প্রধান আসামি মাস্টার আল আমিনকে পুলিশ আটক করেছে। অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই মামলাসূত্রে পুলিশ কর্তৃক ঘটনার মূল রহস্য এবং প্রতারণার সমস্ত তথ্য উদঘাটন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতিপূরণ দানের ব্যবস্থা হোক, এটি আমরা চাই। পাশাপাশি সমাজ থেকে এমন প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানসমূহের অস্তিত্ব যাতে চিরতরে বিলুপ্ত হতে পারে সেই কামনা করি।
প্রথমত প্রতারণার ফাঁদ পেতে যারা মানুষকে প্রলুব্ধ করে তাদের কঠোর বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত মানুষকে বুঝতে হবে মুনাফা অর্জন করা এতো সহজ কাজ নয়। ১ লাখ টাকা নিয়ে তিন মাস পর ২ লাখ টাকা ফেরৎ দেয়া দুনিয়ার কোনো বৈধ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের দ্বারাই সম্ভব নয়। এমন কথা বলে যারা বিনিয়োগের জাল পাতে তারা যে প্রতারক এই বোধটি সকলের ভিতর জাগ্রত হতে হবে। নতুবা নানা নামে এসব প্রতারকরা বারবার সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে যাবে। তবে প্রশ্ন আসে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলো তো প্রকাশ্যেই তাদের কর্মকা- পরিচালনা করে। তখন আমাদের আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠানগুলো কী করে? কেন তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার আগে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন না? দেশে তো নানা নামের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠান আগে কেন প্রতারকদের খবর পায় না সে এক রহস্য বটে। এই রহস্যেরও সমাধান জরুরি।
দোয়ারাবাজারে তথাকথিত অরোরা ডেফি ক্লাব নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে তাদের বিনিয়োগের টাকা ফেরৎ পেতে পারেন সেজন্য কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।