কবুতর পালন করে স্বাবলম্বি রিপন

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
কবুতরকে বলা হয় শান্তির প্রতীক। এক সময় রাজা বাদশারা কবুতরের পায়ে বার্তা বেধে দিতেন। বলা যায় তখন বার্তাবাহক হিসাবে কবুতর ব্যবহার করা হতো। অন্যদিকে রোগীর পথ্য হিসাবে কবুতরের মাংস জুড়ি নেই। অনেকে আবার শখের বসে কবুতর পালন করে হয়েছেন সফল। সে রকমই একজন জামালগঞ্জের সাচনা বাজারের রিপন শিকদার। বয়স ৫০ এর কোটায়।
শুরুটা ৩ জোড়া কবুতর দিয়ে হলেও এখন কবুতরের সংখ্যা ৮০ জোড়া। দশ বছর আগে শখ করে শুরু করেন কবুতর পালন। এখন আর শখে সীমাবদ্ধ নেই, পরিণত হয়েছে পেশায়। খরচ বাদে রিপনের মাসিক আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
রিপনের খামারে রয়েছে লাহোর কালো সাদা, তুবিরাজ, এলমন্ড, ইন্ডিয়ান লোটন। গিরিবাজ, কালদম, মুফিলাল, সুরা চন্দন সহ বিভিন্ন প্রকার দেশী কবুতর। ১০ বছর আগে ৩ জোড়া কবুতর দিয়ে তার খামার শুরু। তারপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। নিজের কাপড়ের দোকানের পিছনে ৩০ ফুট বাই ২৫ ফুটের খাঁচা বানিয়ে কবুতর পালন করেন রিপন। খামারের কবুতর জোড়া ৪শত টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। রিপন শেখের খামার দেখে জামালগঞ্জের হাসিবুল হাসান বাতেন, শফিকুল ইসলাম, কামরুল ইসলামসহ প্রায় অর্ধশত খামারী কবুতরের খামার করেছেন।
খামারি রিপন শিকদার বলেন, একসময় শুধু শখের বসে পালন করলেও এখন বাণিজ্যিক দেবে কবুতর পালন করছেন। বেকার যুবকরা কবুতর পালন করে স্বাবলম্বি হতে পারে। আমার কাছে যারাই পরামর্শ নিতে আসে তাদের প্রত্যেককেই কবুতর পালনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। সারা বছরই কবুতরের চাহিদা থাকে। কবুতরের অসুখ হলে তিনি নিজেই চিকিৎসা করি। শখের বসে ছোট বেলাই কবুতর পালন করতেন সেই শখ এখন পেশায় পরিনত হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবুল কাসেম বলেন রিপন শিকদার একজন সকল খামারি। আমি অনেকবার তার খামার পরিদর্শর করেছি, খুবই ভালো লেগেছে। এছাড়াও এই উপজেলায় অর্ধশতাধিক কবুতর খামারি রয়েছেন। সকল খামারিদেরকে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। কবুতর পালন করে অনেকেই সাবলম্বি হতে পারেন।