কমিটিতে ঠাঁই দিতে সভাপতি ও সম্পাদকের টাকা দাবির অভিযোগ

এনামুল হক, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন নূরী ও সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকার তাদের কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করতে শেখ মোহাম্মদ আলী হোসেন নামের এক নেতার কাছে টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী হোসেন সোমবার সকালে সভাপতি ও সম্পাদক কর্তৃক টাকা দাবির বিষয়টি
তার ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি সভাপতি ও সম্পাদককে মাদকসেবী হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক সমালোচনা শুরু হলে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেকেই পোস্টটি কপি করে শেখ মোহাম্মদ আলী হোসেনের নামে নিজ নিজ ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করতে থাকেন।
জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের উপস্থিতিতে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওইদিন জেলা নেতারা কমিটি ঘোষণা না করে ফিরে যান। পরে ২৩ নভেম্বর সভাপতি হিসেবে গিয়াস উদ্দিন নূরী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিতোষ সরকারের নাম ঘোষণা করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যরিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। কিন্তু শেখ মোহাম্মদ আলী হোসেনের নাম কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করতে গিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাই শেখ মোহাম্মদ আলী হোসেন কমিটিতে সদস্য নির্বাচনের জন্য জেলা নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে মাদকসেবী আখ্যায়িত করে তার কাছে টাকা দাবি করার বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করে শেখ মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, পোস্ট আমি সরিয়ে নিয়েছি। তবে কেউ যদি আমার ওই পোস্টটি কপি করে নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করে থাকে তাহলে আমার কিছু করার নেই।
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকার বলেন, ‘আলী হোসেনের দেওয়া ফেসবুক পোস্টটি আমি দেখেছি। তবে সে আমাদেরকে নিয়ে যেসব মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা লিখেছিল সেই পোস্ট আলী হোসেন নিজেই সরিয়ে নিয়েছে।’
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন নূরী বলেন, ‘আমাদেরকে ঘিরে আলী হোসেন যে পোস্ট দিয়েছে সেটি সম্পর্কে অবগত আছি এবং বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। মাদকের সাথে আমার কোনো ধরনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’