করোনায় সংকটে ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ীরা

পুলক রাজ
করোনা থাবায় বড় সংকটে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। কবে সব কিছু আবার স্বাভাবিক হবে এটিই এখন চিন্তার বিষয় তাদের। অন্য সকল ব্যবসার মতো করোনায় দীর্ঘ মন্দাবস্থার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ওয়ার্কশপ ব্যবসায়। কমেছে কাজকর্ম। শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়ায় সংকটে পড়ছে পরিবারগুলো। এছাড়াও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক ওয়ার্কশপ নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে।
পৌর শহরের পশ্চিম বাজারে রিপিয়ারিং ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের প্রায় ৮ টি দোকান রয়েছে পশ্চিম বাজারে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রভাবে ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন, লকডাউনে অনেক কারিগরের চাকরিও চলে গেছে। যারা কাজ করছেন, তাদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যায়, লকডাউনের কারণে মানুষ বেশী প্রয়োজন ছাড়া স্টিলের দরজা, জানালাসহ কোন ধরনের রিপিয়ারিং কাজ করাতে চাচ্ছে না। এ কারণে কঠিন সময় পাড় করছেন তারা।
মৌ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপের কারিগর সুমন মিয়া বলেন, এখানে ড্রেজার, ধান ভাঙ্গার মাড়াই কল, স্টিলের দরজা, জানালা তৈরী করা হয়। লকডাউনে কাজ একদম কমে গেছে। ওয়ার্কসপে কাজ কমে যাওয়ায় মহা বিপদের মধ্যে আছি। মালিকের রুজি একদম কমে গেছে। আমাদেরকে বেতন দিবে না দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, না নিজের পরিবার চালাবে।
তিনি বলেন, আমার বাড়ি হালুয়ারঘাট, আমি ঘরের বড় সন্তান, আমার মা গৃহিণী, বাবা অসুস্থ, ভাই-বোন আমার ছোট। যেহেতু আমি ঘরের বড় সন্তান আমার দায়িত্ব সংসার চালানোর। বাবার ওষুধের খরচ, ভাই বোনের পড়াশোনার খরচ, সংসারের খরচ সব চালাতে হয় আমার। আমি যে ওয়ার্কসপে কাজ করি করোনা ভাইরাসের আগে দৈনিক ভালোই রুজি হতো দোকানের মালিকের। এখন রুজি করতে হিমশিম খেতে হয়। মালিকের যদি রুজি না হয় আমাদের কারিগরকে কি ভাবে চালাবে। তারপরও অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে।
শাওন রিপিয়ারিং ওয়ার্কসপ মালিক জয়ন্ত রায় বলেন, স্টিলের গেইট, দরজা, জানালাসহ রিপিয়ারিং কাজ করি আমার ওয়ার্কসপে। গত বছর প্রথম লকডাউনের সময় আমার দোকানের সব কারিগরকে বিদায় দিয়ে দেই। আমার অনেক খারাপ লাগছিলো তখন। কি করবো, নিজেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিজেই টুকটাক কাজ করে কোন মতে সংসার ও দোকান ভাড়া চালাই। লকডাউনের সময় কোন কাস্টমার আসে না, আয়ও হয় না।
মায়ের দোয়া রিপিয়ারিং ওয়ার্কসপ মালিক দব্বির আহমদ বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য অর্থ সংকটে আছি আমরা প্রত্যেক ওয়ার্কসপ মালিকরা। করোনার আগে আমার ওয়ার্কসপে ১২-১৩ জন কারিগর ছিলো। এখন কমতে কমতে ৪-৫ জন আছে। ড্রেজার মেশিন, কনভিয়ারসহ সব ধরনের রিপিয়ারিং কাজ করি। কাস্টমার একদম কমে গেছে, আগের মতো জমজমাট নেই। রুজিও কমে গেছে। কারিগরের বেতন দিতে হয় অনেক কষ্ট করে। দোকান ভাড়া মাস শেষে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।