করোনা জয় করে আবারও মানুষের সেবায় ডা. জসিম উদ্দিন

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ.সুনামগঞ্জ
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই এ সংক্রান্ত কাজের সব কিছুই দেখভাল করছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ও উপজেলা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. জসিম উদ্দিন শরিফী। দিন-রাত সব সময় জনগণের জিজ্ঞাসার উত্তর, তথ্য ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ‘মানবতার ডাক্তার’ খ্যাত এই চিকিৎসক। সদা হাস্যজ্জ্বল ডা. জসিম উদ্দিন মানুষের সাথে খুব সহজে মিশে যান। মানুষও ভালোবাসে তাঁকে। আর এই ভালোবাসার কারণেই হয়তো সুস্থ্য হয়ে আবারও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হওয়া, চিকিৎসাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা ও করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে প্রচন্ড জ্বর, কাশি ও শরীর ব্য্থা শুরু হয় তাঁর। সহকর্মী চিকিৎসকদের পরামর্শে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্যক নমুনা দেন তিনি। ১২ জুলাই রিপোর্ট পজিটিভ আসলে এবং শরীরে উপসর্গ লক্ষ করে নিজে থেকেই আইসোলেশনে চলে যান তিনি। ১৩ জুলাই কাশি মারাত্মক আকার ধারণ করে, সাথে কিছুটা শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। এমতাবস্থায় সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যানসহ আরও কিছু পরীক্ষা করেন। রিপোর্ট আসে করোনা ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে তাঁর। এরপর আল্লাহর অশেষ রহমতে, ওখানকার চিকিৎসক ও স্টাফদের আন্তরিক সেবায়, তাঁর বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের দোয়ায় জুলাইয়ের ২৩ তারিখ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান তিনি। ২৭ ও ২৮ জুলাই নমুনা পুন:পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে এখনো চিকিৎসকদের পরামর্শে কিছু ওষুধ খাচ্ছেন তিনি। এই অবস্থায়ই শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলার করোনা সংক্রান্ত কাজসহ স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাজে আবারো যোগ দিয়েছেন তিনি।
করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যপারে বলেন ‘আমাদের সবাইকে সর্বাগ্রে সচেতন হতেই হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। অবশ্যই শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বাইরে বের হলে অবশ্য ই মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সহসাই হয়তো করোনা বিদায় নিচ্ছে না। তাই আমরা সবাই এই নিউ নরমাল লাইফে অভ্যস্ত হতে হবে।
সদালাপি এই চিকিৎসক এর করোনামুক্তিতে স্বাস্হ্যা প্রশাসনসহ উপজেলার সকল বিভাগে স্বস্তি ফিরেছে। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মিডিয়াকর্মীসহ উপজেলার সকলেই মানবতাবাদী এই ডাক্তারের ফিরে আসাতে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ডা.জসিম উদ্দিন শরিফী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের খুদিরাই গ্রামের মরহুম শরীফ উল্লার মেজো ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ২০০৬ সালে এমবিবিএস পাশ করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে ২৮তম বিসিএস এর মাধ্যমে ক্যাডার অফিসার হিসাবে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। ২০১৮ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।