করোনা পরীক্ষা করতে আসছে না কেউই

বিশেষ প্রতিনিধি
‘আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১৭ জন, এরমধ্যে জ¦র, সর্দি ও কাশিতে ভোগছেন ১৩ জন। কেউ কাউকে সেবা-যতœ করার নেই, কেবল আমার বাড়ি নয়, সীমান্তের লক্ষীপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ বাড়িতে এমন অবস্থা। উপজেলা সদরে আসার রাস্তা-ঘাটের অবস্থাও ভালো নেই। একজন রোগী পরীক্ষা করতে আসলে পথে খরচ হবে ৩০০ টাকা। এজন্য কেউ পরীক্ষা করতে আসে না।’ কথাগুলো বলছিলেন দোয়ারাবাজারের সীমান্তবর্তী লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোয় ঘরে ঘরে জ¦র, সর্দি ও কাশির রোগী বেড়েছে। কিন্তু কেউই করোনা পরীক্ষা করছে না। সীমান্তের জনপ্রতিনিধিরা সোমবার দোয়ারাবাজারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথ করার দাবি জানিয়েছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম জানালেন, ইউনিয়নের প্রত্যেক গ্রামে মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ ভোগছে জ¦র. সর্দি ও কাশিতে। কিন্তু কেউ করোনা টেস্ট করাচ্ছে না। করবেও না। সারাদেশে করোনা বাড়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে আমাদেরও। এজন্য সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বলেছিলাম এলাকায় করোনা উপসর্গ যাদের আছে, তাদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা বা ইউনিয়ন পরিষদে নমুনা সংগ্রহের বুথ করা যায় কী না। তারা বলেছেন, এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি নেই।
এই ইউনিয়নের স্বাস্থ্য পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বললেন, ইউনিয়নের ২৪ গ্রামেই সর্দি, কাশি ও জ¦রের রোগীতে ভর্তি। করোনা পরীক্ষা করছে না কেউই। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কে অনুরোধ করেছিলাম, করোনার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য তাঁরা যাতে মানুষকে সচেতন করেন। চেয়ারম্যান সাহেব বললেন, ইউনিয়ন পরিষদে করোনার নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করে দিতে। আমি বলেছি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য।
এই সীমান্তের বাংলাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন একই ধরনের মন্তব্য করে জানালেন, তিনি নিজেও জ¦রে আক্রান্ত। ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে প্রতিটি পরিবারে জ¦র, সর্দি, কাশির রোগি আছে। কাছাকাছি ভারতের মেঘালয়ের চেলা বাজার। ওখানকার কোন করোনা ভ্যারিয়েন্ট এখানে আসে কী-না ভয়ের মধ্যে আছেন তিনি। বললেন, কেউ করোনা টেস্টও করায় না, করাবেও না। যদি কাছাকাছি কোথাও টেস্টের ব্যবস্থা হতো, তাহলে আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে তাগিদ দিয়ে করেনা টেস্ট হয়তো করাতে পারতাম।
সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন আহমদ বললেন, ইউনিয়ন পরিষদে নমুনা সংগ্রহের বুথ করার কোন ব্যবস্থা আমাদের নেই। আমি যেটি করতে পারি করোনার উপসর্গ যাদের রয়েছে, তারা যাতে উপজেলা পরিষদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টেস্ট করাতে আসে সেজন্য সকলকে কাজ করতে বলবো। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সহায়তা নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীরা যাতে এ ধরনের সচেতনতা কার্যক্রম চালান সেটি বলে দেবো।