কারাগারে সাবেক প্যানেল মেয়র রাসেল

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে প্রতারণার মাধ্যমে দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা মামলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র- ১) হোসেন আহমদ রাসেল এর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কুদরত-এ-ইলাহী এই আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ কোর্ট ইন্সটেক্টর সেলিম নেওয়াজ বলেন, মামলায় পলাতক থাকা আসামী সাবেক এই কাউন্সিলর আদালতে আত্মসমপর্ণ করে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রতারণার মাধ্যমে দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে জন্মসনদ দেওয়ার মামলায় গত বুধবার সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট সুনামগঞ্জ সদর জোনের বিচারক কুদরত-এ-ইলাহী। ওই মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালত পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং মামলার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়াডের কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র-১) হোসেন আহমদ রাসেল, পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী পিযুষ কান্তি তালুকদার, পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক ও স্যানিটারী পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিন, পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত ও সুনামগঞ্জ বারের আইনজীবী কাওসার আলম। এই পাঁচজন মামলার এজহারভুক্ত আসামি নন। পুলিশ অভিযোগপত্রে তাদের নাম যুক্ত করেছে।
গত বৃহস্পতিবার একই আদালত থেকে জামিন পান পৌর মেয়র নাদের বখ্ত ও আইনজীবী কাওসার আলম।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, যখন এসব সনদপত্র দেওয়া হয় তখন তিনি ঢাকায় ছিলেন। মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়াডের কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র-১) হোসেন আহমদ রাসেল। তাই এই প্রক্রিয়ার কোনোভাবেই তিনি যুক্ত নন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করতে আসেন দুই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন। তারা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চার ব্যক্তির সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে আসেন। এই চার ব্যক্তি জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ওই দিন সকালে পাসপোর্ট করতে গিয়ে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বিকেলে আবার ছবি তোলা ও আঙ্গুলের ছাপ দিতে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গেলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে দুই রোহিঙ্গা ও তাদের সহযোগী চার ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেন পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
ওই দিনই প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার তেরানগর গ্রামের মো. ফরহাদ আহমদ (৩৬), রামনগর গ্রামের মো. নূর হোসেন (২৩), সুজাতপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন (২৪) ও আমির উদ্দিনকে (২৩) আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাতুল ইসলাম তালুকদার। এর আগে ওই দুই রোহিঙ্গা সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপাড়া এলাকার বর্তমান বাসিন্দা হিসেবে স্থানীয় কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেলের সুপারিশে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে জন্ম সনদ নিয়েছিলেন।