কারামুক্ত শাল্লার ঝুমন দাশ

স্টাফ রিপোর্টার
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগার থেকে মুক্ত হলেন শাল্লা উপজেলার ঝুমন দাশ। গত রোববার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ৬ মাসের জামিন দেন। ভবিষ্যতে তিনি ফেসবুকে উসকানিমূলক ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কোনো পোস্ট দেবেন না, এই মুচলেকায় তাকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
হাইকোর্ট থেকে জামিনের পর বুধবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় সুনামগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয় ঝুমন দাশ। এসময় ঝুমন দাশ’র স্ত্রী সুইটি রানী দাশসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কারামুক্ত হয়ে ঝুমন দাস বলেন, যে কয়টা শর্তে আমি জামিন পেয়েছি সেগুলো মেনে চলবো। আমি কোনো খারাপ বা বিতর্কিত মন্তব্য করবো না।
ঝুমন দাশ’র স্ত্রী সুইটি রানী দাশ বললেন, আজ উনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করবো উনাকে বুঝিয়ে রাখতে। আমি চাই আদালত যেন উনাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেন।
এর আগে ফেসবুকে উস্কানীমূলক পোস্ট দেয়ার কারণে গত ৩১ আগস্ট শাল্লা থানা পুলিশ থানায় নিয়ে ঝুমন দাশ কে জিজ্ঞাসবাদ করে। পরে রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয় ঝুমনকে। পরের দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে হেফাজতের সাবেক নেতা কারাবন্দি মামুনুল হকের সমালোচনার অভিযোগে গত বছরের ১৬ মার্চ গ্রেপ্তার হন শাল্লা উপজেলার দুর্গম নোয়াগাঁও গ্রামের যুবক ঝুমন দাশ। সাড়ে ৬ মাসের অধিক জেল খেটে ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেন ঝুমন। ২০২১ সালের ১৭ মার্চ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওই গ্রামে তা-ব চালিয়েছিল মামুনুল হকের অনুসারীরা।