কিরণমালায় শিকার হচ্ছে চিংড়ির পোনা

আকরাম উদ্দিন
স্বচ্ছ প্লাস্টি ও বাঁশ বেতের তৈরি কিরণমালা ছাঁই দিয়ে শিকার হচ্ছে চিংড়ি মাছের গুঁড়ো পোনা। হাওরের বিভিন্ন স্থানে চিংড়ি মাছের পোনা শিকার করতে এই ছাঁই ব্যবহার করছেন হাওরের বাসিন্দারা। চিংড়ি মাছের পোনা শিকার খুবই সহজ ও লাভজনক। এবার হাওরে পানি কম থাকায় মাছের পোনা বেরিয়ে যেতে পারেনি। যে কারণে হাওরে আধার দিয়ে ছাঁই স্থাপন করলেই সম্পূর্ণ ভর্তি হয়ে যায় চিংড়ি পোনা। এই পোনা বাজারে বিক্রি হয় বেশি দামে। তাই এবার এই ছাঁই ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে কয়েক গুণ।
সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওর বিলে নিরবে নিরাপদে এই ছাঁই ব্যবহার করে আসছেন মৎস্যজীবীরা। স্বচ্ছ বোতল ও বাঁশ বেতের তৈরি এই কিরণমালা নামের ছাঁই ব্যবহার করে চিংড়ি মাছের গুঁড়ো পোনা নিধন করা হচ্ছে। গত বছর ১ কেজি পোনার দাম ছিল ৩ শত টাকা, এবার এই চিংড়ি পোনা চাহিদা বেড়ে উঠায় সর্বোচ্চ ৬ শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে আসছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচা, আঙ্গারুলি, হালির হাওর, সদর উপজেলার জাওয়া ও দেখার হাওর, কাংলার হাওর, সিলুয়ার হাওর, জোয়াল ভাঙা হাওরে এই কিরণমালা ছাঁই বেশি ব্যবহার হয়ে আসছে বলে একাধিক মৎস্যজীবী জানিয়েছেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধরেরপাড় গ্রামের মৎস্যজীবী তাপস সূত্রধর জানান, ছাঁই মাছ শিকারের একটি নিরাপদ যন্ত্র। এই ছাঁই দিয়ে অন্যান্য প্রজাতির মাছ তো শিকার হয়েই, তবে কিরণমালা ছাঁই দিয়ে বেশি শিকার করা যায় চিংড়ি মাছের গুঁড়ো পোনা। এই পোনা বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। গত বছর ছিল সর্বোচ্চ ৩ শত টাকা কেজি, এই পোনার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবার সর্বোচ্চ ৬ শত টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সদর উপজেলার শান্তিগঞ্জ এলাকার মৎস্যজীবী বাবর আলী বলেন, দেখার হাওরের একাধিক স্থানে ছাঁই দিয়ে মাছের পোনা শিকার করা হচ্ছে। তবে কিরণমালা নামের ছাঁই দিয়ে শুধুমাত্র চিংড়ি মাছের গুঁড়ো পোনা শিকার করা হয় বেশি। এই পোনা অনেক দামে বিক্রি হয়।
শিংপুর গ্রামের আমির হোসেন বলেন, কাংলার হাওরের কয়েক স্থানে ছাঁই দিয়ে মাছের পোনাসহ মাছ শিকার করা হয়ে থাকে। তবে এবার একটি স্বচ্ছ ছাঁই দিয়ে চিংড়ি মাছের পোনা নিধন করে আসছে একাধিক মৎস্যজীবী। চিংড়ি মাছের গুঁড়ো পোনা বেশি দামে বিক্রি হয়।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আসামপুর গ্রামের আইয়ুব আলী বলেন, ছাঁই দিয়ে সকল প্রজাতির মাছের পোনা শিকার করা যায়। এবার বের হয়েছে চিংড়ি মাছের গুঁড়ো পোনা বেশি শিকার করা যায়, এমন জাতের ছাঁই।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আলাউর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে পর্যাপ্ত পানি না আসায় বিভিন্ন হাওর বিলে মাছের পোনা নিধন হচ্ছে। বেশি নিধন হচ্ছে কিরণমালা ছাঁই দিয়ে চিংড়ি মাছের গুঁড়ো পোনা। এই পোনার চাহিদা অনেক বেশি বাজারে। বিক্রি হয় দ্বিগুণ দামে।
সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রাণী বিশ্বাস বলেন, ছাঁই দিয়ে মাছের পোনা নিধন বেআইনী এবং স্থায়ীভাবে কেউ যদি প্লাস্টিকের ছাঁই স্থাপন করে মাছ শিকার করে তাও বেআইনী। মৎস্য আইনে অভিযান করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।